08/11/2026
ক্ষুদ্র অন্যায়ের প্রশ্রয় নতুন ও বৃহত্তর অন্যায়কে জন্ম দেয়, এটা জানেন তো⁉️
অনেকেই জানেন, কিন্তু মানতে নারাজ। আজ আপনার নিজের সন্তান কিংবা জীবনসঙ্গী অথবা যেকোনো ব্যক্তি আপনাকে হাসির ছলে ছোটখাটো একটা অপমান করেই বসলো। কিন্তু, আপনি তার কোনো প্রতিবাদ করলেন না, বিপক্ষে কোনো যুক্তিসঙ্গত উত্তরও দিলেন না। আঘাতে আপনার ভেতরে ক্ষত তৈরী হলেও, আপনার খুব অপমানিত বোধ হলেও , নিরবে মুখে একটা নকল হাসি দিয়ে এড়িয়ে গেলেন।
কি ভাবলেন❓এখানেই শেষ❓না কখনোই না...
বরং এটাই শুরু, এটা ছিলো জাস্ট ট্রেইলার❗
আজ যখন আপনি , আপনার সাথে হওয়া ছোট্ট একটা অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলেন, সেই মুহুর্তেই আপনার সামনের ব্যক্তিটি জেনে গেল, আপনাকে অপমান করা বা ছোট করা খুব সহজ কাজ। তারা সেটা এঞ্জয় করতে শুরু করলো...
আজ যখন, আপনার সন্তানের আপনার সাথে করা ছোট্ট একটা বেয়াদবিকে প্রশ্রয় দিলেন, শাসন করলেন না। কাল সে বড় আকারে বেয়াদবি, অসভ্যতা করবেই। সেইদিনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন...
পুরুষদের চেয়ে তুলনামূলকভাবে, আমরা নারীরা, বউয়েরা কিংবা মায়েরা একটু বেশিইই মানিয়ে নিতে চাই। মানিয়ে নিতে পারাটা যেন একটা মহৎ গুণ! তারপর, মানিয়ে নেওয়ার নামে নিজেদেরকে ছোট করে ফেলি। কোনো একটা অজানা ভয় বা দুর্বলতার কারণে, প্রতিবাদ করতে চাইনা।
আপনারা যারা ভাবেন, মানিয়ে নিলেই সুখে থাকা যায়, প্রতিবাদ না করে মেনে নিলেই সম্পর্ক টিকে যায়, ভালো থাকা যায়, আপনারা সিওর তো❓
আমি আমার খুব কাছের কিছু মানুষদের দেখেছি। যারা মানিয়ে আর মেনে নিতে নিতে তাদের পুরোটা জীবন কাটিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু তার প্রতিদানে এক বিন্দু সম্মান-ভালোবাসা পাচ্ছেনা। তাদেরকে অপমান করা সহজ ভেবে নেওয়া এক দল মানুষ, উঠতে বসতে তাদেরকে অপমান করে যাচ্ছে, ব্যবহার করে যাচ্ছে। হাসি-ঠাট্টার ছলে ছোট করছে নিত্যদিনই❗
এই আজীবন মেনে নেওয়া মানুষগুলোর কষ্ট হয়না এমন না। ভেতরে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় এদের, তবুও মুখে বলে "আরেহ আমিতো অভ্যস্ত , আমার সাথে আজীবনই এমন হয়ে আসছে, এভাবেই কটুকথা শুনি আমি , বাদ দাও! সমস্যা নেই! "
পরিবারে কোনো নতুন সদস্য আসলেও, দুদিন পর তারাও যেন বুঝে যায়, অমুক মানুষটাকে ছোট করা যায় সহজেই। তাকে অপমান করে আলাদা একটা মজা আছে। তার এফোর্টে এতো প্রশংসা করার প্রয়োজন নেই। তাকে এতো গোনায় ধরতে হবেনা।
কেন? কেন অভ্যস্ত হলেন আপনারা? কেনই বা মিথ্যে হাসি মুখে এনে জোর করে প্রমাণ করলেন যে কষ্ট পাননি? কি প্রতিদান পাওয়া গেল তাতে? আরও দ্বিগুণ অপমান❓
এই মানুষগুলোর ভালো কাজে কোনো প্রশংসা পেতে দেখিনা। তবে, পান থেকে চুন খসলেই অপমান করার সুযোগ কেউই ছাড়েনা। আজ তাদের এই পরিস্থিতির জন্য তারা নিজেরাই কি অনেকাংশে দায়ী নয়❓
নিজেকে এমন পরিস্থিতিতে নিয়ে যাবেন না, যেখানে গেলে প্রতিদিন আপনার সাথে অন্যায় অবিচার বা অপমানজনক আচরণ চলতেই থাকবে। নিজেকে সস্তা ও সহজ বানাবেন না। নিজের ভার, নিজের ওজন , নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে জানুন, বুঝুন। নিজেকে সম্মান করুন ও আপনাকে যে সম্মান করবেনা তাকে বুঝিয়ে দিন, চুল পরিমাণ অসম্মান আপনি মেনে নিবেন না। আপনার সাথে কথা বলতে গেলে, অবশ্যই আপনাকে সম্মান দিয়েই কথা বলতে হবে। আপনার উপর সহজেই অসম্মানজনক আচরণ বা দোষ চাপিয়ে দেওয়া যাবেনা ❌
নয়তো জেনে রাখুন, ভবিষ্যতে আপনার ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ের খোঁজ কেউ রাখবেনা। বরং তাতে নতুন ক্ষত আঁকতে চেষ্টা করবে...