05/05/2018
(সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে কিন্তু রাজনীতিতে আগ্রহী কিছু মানুষের পারিবারিক নাটক)
কোন রবিবারের সকাল,জলখাবার খেতে খেতে মেয়ে ও বাবা আড্ডা দিচ্ছে
মেয়ে:জানো বাপি এই হয়েছে সেই হয়েছে (সে যা যা চারপাশে ঘটছে শুনছে রাজনীতির কর্মকান্ড তা বাবাকে শোনাচ্ছে)
বাবা:(নানা বিষয়ে মত প্রকাশের পর) এবারে কি ভোট দিবি,পার্থী তো দিতে পারলো না দল। ক্লাস করিস কলেজে বাড়ি আসতে হবে না।
(মা এর প্রবেশ যিনি রাজনীতিতে বিন্দুমাত্র আগ্রহী নন)
মা:অমুক কাকার বৌমা দাঁড়িয়েছে তো,কাকা খুব করে বলে গেছে দিয়ে আসব ভোট,তমুক দলে বোধ হয়।(যেটা মেয়ে ও বাবার পছন্দের দল নয়)
(বাবা ও মেয়ে দুজনেই হতবাক,দুজনের মধ্যের রাজনৈতিক স্বত্বা তখন জেগে উঠেছে।)
মেয়ে:দেখুন কমরেড আমাদের ঘরের মধ্যেই শ্রেনীশত্রু।
বাবা:বিয়ের সময় থেকেই জানতাম তোমার মামার বাড়ির ঐদিকটা সব বুর্জোয়া,পুঁজিপতিতে ভরা।কিন্তু তাতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই এর বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করবো।
(ইতিমধ্যে পুনরায় মা এর প্রবেশ)
মা:(বাপির দিকে বেলন কাঠ ধরে)এই রাজনীতি করে করে তো জীবনে অনেক সময় নষ্ঠ করেছ।সংসারের সব আমাকে একহাতে সামলাতে হয়েছে(পরবর্তী তিরিশ মিনিট নিজের সংসার সংগ্রামের বর্ননা)।এত করে কি হয়েছে! দল পাত্তা দেয় নি,মান বাঁচিয়ে চলে আসতে হয়েছে। (মুচকি হাসি সহযোগে,বক্তা একধরনের পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করছেন,আবার পুনরায় বক্তব্য) এখন শুরু করেছ মেয়ের মাথা চেবানো, ভালোয় ভালোয় বলে দিচ্ছি বন্ধ করো এইসব ভুলভাল বোঝানো।আর আধ ঘন্টার মধ্যে যদি রান্নাঘরে বাজারের ব্যাগ না দেখি আমি আজ আর রান্না করবো না বলে দিলাম।
(মায়ের প্রস্থান।মেয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে বুঝলো তার নেতা বিরোধী ঝড়ে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।)
মেয়ে:তাহলে আমাদের আন্দোলনটা কোন দিকে এগোচ্ছে কমরেড?
বাবা:শ্রমের ওপর ভর করেই দেশ চলছে,তাই শ্রমজীবী মানুষের দাবি সর্বাগ্রে স্থান দিতে হবে।তাই আমি বাজারে চললাম।কিন্তু কমরেড ভুলে গেলে চলবে না নেত্রীর মধ্যে কিন্তু অন্যায়ভাবে আন্দোলন দমন,এবং বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার এক ভয়ংকর প্রবনতা রয়েছে যার বিরুদ্ধে আমরা একদিন সময় করে বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।
মেয়ে:ঠিক আছে কমরেড😊😊