11/08/2026
৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘হর ঘর তিরঙ্গা–২০২৬’ অভিযান। এই কর্মসূচিকে সফল করে তুলতে গোমতী জেলা-স্তরের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঙ্গলবার উদয়পুরের রাজর্ষি প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ ‘তিরঙ্গা কনসার্ট ও বন্দেমাতরম প্রদর্শনী’। গোমতী জেলা প্রশাসন, গোমতী জেলা পরিষদ, উদয়পুর পৌর পরিষদ এবং জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাসের বার্তা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, গোমতী জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার, উদয়পুর পৌর পরিষদের চেয়ারম্যান শীতল চন্দ্র মজুমদার, গোমতী জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক সুভাষ আচার্য্য সহ প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল তিরঙ্গা ও ‘বন্দে মাতরম’-কে কেন্দ্র করে সাজানো প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে ভারতের জাতীয় পতাকা তিরঙ্গার গৌরবময় ইতিহাস, তার বিকাশের ধারা এবং জাতীয় জীবনে এর গুরুত্ব বিভিন্ন তথ্য ও উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’-এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অমর দেশপ্রেমের চেতনা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের আবেগও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। প্রদর্শনীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ ছিল দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত বিএসএফ জওয়ানদের ব্যবহৃত বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্র, সরঞ্জাম ও সামরিক সামগ্রীর প্রদর্শনী। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএসএফ জওয়ানদের ভূমিকা, তাঁদের সাহস, বীরত্ব, ত্যাগ ও দেশসেবার নানা দিক এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়। সামরিক সরঞ্জামগুলি কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে দর্শনার্থীদের মধ্যেও বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজর্ষি প্রেক্ষাগৃহ চত্বরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। দেশাত্মবোধক আবহে আয়োজিত কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে স্বাধীনতার চেতনা এবং দেশপ্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে জাতীয় পতাকার মর্যাদা, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়গুলি তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় বলেন, স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই ধরনের আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিরঙ্গা শুধুমাত্র একটি জাতীয় পতাকা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, ঐক্য ও জাতীয় গৌরবের ইতিহাস। এই প্রদর্শনী সেই গৌরবময় ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভূতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে অসংখ্য দেশপ্রেমিক তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। স্বাধীনতার ইতিহাস ও জাতীয় ঐতিহ্যকে স্মরণ করার পাশাপাশি দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত জওয়ানদের অবদানকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা প্রয়োজন। তাঁদের সাহস ও আত্মত্যাগ দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘হর ঘর তিরঙ্গা–২০২৬’ অভিযানের মাধ্যমে প্রতিটি বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য ও তিরঙ্গার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য রয়েছে। স্বাধীনতার ইতিহাসকে মনে রেখে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে ‘হর ঘর তিরঙ্গা–২০২৬’ অভিযানকে জনসম্পৃক্ত করে তুলতে গোমতী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই মঙ্গলবারের ‘তিরঙ্গা কনসার্ট ও বন্দেমাতরম প্রদর্শনী’ আয়োজন করা হয়।
সব মিলিয়ে স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে উদয়পুরে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ আয়োজন দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য এবং তিরঙ্গার প্রতি শ্রদ্ধার এক অনন্য বার্তা বহন করে। তিরঙ্গার ইতিহাস, ‘বন্দে মাতরম’-এর চেতনা এবং দেশের সীমান্তরক্ষী জওয়ানদের বীরত্বকে একই মঞ্চে তুলে ধরে অনুষ্ঠানটি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার গৌরব ও দেশসেবার চেতনাকে আরও জাগ্রত করেছে।