28/11/2024
সারে সাত মাসের পেট নিয়ে স্বামীর দ্বিতীয় বৌকে বরন করতে দেখছি, আমার শ্বাশুরী খুব খুশি হয়ে বরন করে ঘরে তুললো। আয় মা আমার ঘরে আয়, ভাই সাহেবকে দেয়া কথা আজ রাখতে পারলাম।
এতোদিনে আমার ছেলে কাজের মতো কাজ করছে আয় বাবা এই সোফাতে বস আমি তোদের জন্য জুস নিয়ে আসছি।
আমি আর দাড়িয়ে না থেকে তাদের সামনের সোফাতে বসে পড়ি,
(আমি তাইয়্যেবা হোসেন, বাবা-আরিয়ান হোসেন, মা-লাবন্য বেগম, বড় ভাই-আদিয়ান হোসেন ।আমার পরিবারের সবাই অস্ট্রেলিয়ার সিডনীতে থাকে।)
তবে শ্বশুর বাড়ির সবাই যানে আমি এতিম, কেনো যানে পড়ে বলবো।
(স্বামী -মেহেরাজ, বাবা-মানিক শেখ, মা-সালমা, ভাই-মিজান, বোন -মেহের )
রাজ কি কারনে তুমি এমনটা করলে কি কমতি ছিলো আমার ভালোবাসায়, দেখো তাইয়্যেবা আমি তোমাকে ভালোবেসে বিয়ে করে আনি নি। বলতে পারো এতোদিন তাহলে কি ছিলো, মূলত আমি কেয়াকে শুরু থেকেই ভালোবাসি।একটা এক্সিডেন্টে ওর মা হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তাই তোমার সাথে ভালোবাসার নাটক করে তোমাকে বিয়ে করি। এখন বাচ্চাটা জন্ম নিলে তোমাকে ডিভোর্স দিবো। আমি যদি তোমার নামে কেইস করি তখন কি হবে।
হা হা হা আমাকে তুমি এতো কাচা খেলোয়াড় ভেবো না আমি তোমার মতো এতিমকে যেনে শুনে বিয়ে করি যাতে পরবর্তীকালে কোনো জামেলা করতে না পারে।
তুমি এই সব ছোটো লোকের সাথে এতো কথা বলছ কেনো, এই মেয়ে বেশি কথা বলবি না আমরা যা বলি তাই শুনবি তাহলে ডিভোর্সের চার লাক্ষের সাথে আরো এক লাক্ষ বাড়িয়ে দেবো। আমি শুধু ওদের কথা শুনছি, আমার শ্বাশুরী এসে আমার গালে একটা থাপ্পড় মেরে বলে ফ*কিরের বাচ্চা ফ*কির তোর মতো একটা এতিমকে এতো দিন আমার বাড়িতে আদর যত্ন করছি তোর সাত কপালের ভাগ্যে। শ্বশুর এগিয়ে এসে বলে দেখো মেয়ে তোমার কোনো যোগ্যতাই ছিলো না আমার ছেলের বৌ হবার, তারপরেও হয়েছ। এখন এই বাচ্চাটা দিয়ে চলে যাবে না হলে মে*রে ফেলবো। কাদার জন্য দুনিয়াতে কেউ থাকবেনা।
বাবা আমি তো নিজে আসি নাই আপনার ছেলে এনেছে বলে এসেছি, আগে যদি যানতাম আপনারা এতোটা নিচ তাহলে আমি কেনো আমার থুথু ও ফেলতে আসতাম না। দেখলি রাজ কতো বড় সাহস আমাকে কথা শুনায়। আজ ওকে বোঝাবো তোমাকে অপমান করার পরিণাম, একটা লাঠি নিয়ে আমাকে কয়েকটা বাড়ি মারলে আমি ব্যাথায় ছটফট করে কেঁদে দিলাম। আমার কান্না শুনে ঘর থেকে আমার ননদ ও দেবর এসে দেখে তার ভাই আমাকে মারছে।
দুজনে এগিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো ,কি করছিস ভাই ভাবীকে মারছিস কেনো এই অবস্থায় বাচ্চার শরীরে আঘাত লাগবে। ভাই এই মেয়ে কে, তোর নতুন ভাবী, কিইইইই ,তোমার মাথা খারাপ হয়েছে তুমি ভাবীকে রেখে আবার বিয়ে করছ। বাচ্চা হলে ওকে ডিভোর্স দেবো, তাই এই কয়েকদিন ওকে মুখ বন্ধ করে থাকতে বলবি।
চলো কেয়া আমরা ঘরে যাই,বেবি আমাদের বাসর কোথায় সাজাবে কেনো আমি যে ঘরে থাকি সেখানে। না বেবি ঐ ঘরে এই ছোটো লোক থেকেছে এতোদিন তাই ঐখানে না অন্য ঘরে। আচ্ছা পশ্চিম পাশের ঘরে সাজাবো লোক আসবে সন্ধ্যায়, এখন মার রুমে গিয়ে ফ্রেশ হও।
ঐ ঘরে থাকবেনা ছোটো লোক থেকেছে বলে আর যে ছেলের সাথে বিয়ে বসেছ সেই ছেলেটার প্রতিটি অঙ্গে এই ছোটো লোকের ছোয়া লেগে আছে।তাহলে বোঝা যায় কে আসল ছোটো লোক। মেহেরররর তোর সাহস তো কম না তুই কেয়ার সাথে এই ভাবে কথা বলিস। মা, বাবা তোমরা ভুলে যেওনা আমি তোমাদের মেয়ে বেশি কথা বললে তোমাদের সবাইকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেবো, প্রথম বৌর অনুমতি না নিয়ে বিয়ে করেছ এখন তার উপর অত্যাচার করছ।
হায় হায় এই কাল নাগিনী আমার ছেলে মেয়েকে কি জাদু করেছে যার জন্য ওর মতো একটা এতিমের জন্য বাবা, মা, বড় ভাইকে পুলিশের ভয় দেখায়। তোমরা এখনো আমাদের ইনকামের উপরে চলো তাই আজ যা বলেছ মাফ করলাম ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো দিন না দেখি এমন ব্যবহার করতে।
ভাবী চলো তোমার ঘরে ওদের সাথে কথা বলে লাভ নেই ওরা লোভে পড়ে অন্ধ হয়ে গেছে। রাজজ আজ যে কটা আঘাত করেছ পরশু এর থেকে বেশি আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকো, আমি আবার কারো ঋণ বেশি দিন রাখি না।তোকে তো আমি ,থামো রাজ ও এমন করছে যাতে আমাদের বেবির ক্ষতি হয় বলতে থাকুক কিছু বলো না চলো ঘরে।
মেহের ও মিরাজ আমাকে ঘরে এনে শুয়ে দিলো, আঘাতের জায়গাতে মলম দিয়ে কাঁদতে লাগল। ভাবী আমি তোমাকে বেশি দিন এখানে রাখবনা দেখো বেবি হওয়ার আগেই তোমাকে এখান থেকে নিয়ে যাবো।
মেহের আমাকে একটু একা থাকতে দাও প্লিজ। মেহের চলে গেলে উঠে দরজা বন্ধ করে এসে খাটে বসলাম, একটুও কাঁদলাম না কাঁদলে মন হালকা হয়ে যাবে তাতে শাস্তিটা কঠিন দিতে পারবোনা।
মোবাইলটা নিয়ে কল করলাম বাবার মোবাইলে, হেলো মা কেমন আছো আমার নাতি কেমন আছে। ভালো নেই আমরা তোমার চুছ করা ছেলে ও তার বাবা মা অনেক লোভী বাবা আজ,,,,,,,,,,,সব কিছু বললাম। মামনি তুমি চিন্তা করো না আমরা সবাই কাল আসছি, একে বাবা রাখছি আমি এখন ঘুমানো।
আদিয়ান, লাবণ্য এদিকে আসো আমাদের আদরের সন্তান ভালো নেই আমি মানুষ চিনতে ভুল করছি ওরা আমার মেয়েটার সাথে এতোবড় অন্যায় করে আবার তাকে আঘাত করে। কি বলো বাবা তাবুর কি হয়েছে, সব কিছু খুলে বললো। দাড়াও আমি এখনি টিকেকের ব্যবস্থা করছি, ওদেরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেবো চিনে না কার বোনের গায়ে হাত দিয়েছে। আদি আমার তাবুকে ঐ রাস্কেলটা মেরেছে হু হু হু,আমার মেয়ে আমার কলিজা কেন আমার দ্বারা এতো বড় ক্ষতি হলো আল্লাহ।বাবা শান্ত হও আমাদের কলিজাকে যতোটা আঘাত করেছে তার চেয়ে চারগুন বেশি আঘাত দিবো দেখে নিও।
যখন মানিকের ছেলেকে আমি তাইয়্যেবার জন্য পছন্দ করলাম তখন মেয়েটা একবারের জন্য না করেনি শুধু বলেছে আমার একটা ইচ্ছা আছে আমি ছেলের সাথে দেখা করে প্রেম করব এবং পালিয়ে বিয়ে করবো এটা আমার ছোটো বেলার থেকে শখ। পরে ঠিক দুবছর পরে তোমার যাবে তাদেরকে সারপ্রাইজ দিতে, ছেলে যেহেতু আমরা পছন্দ করেছি তাই খুশি মনে সে দিন মেয়েকে বিদাই দেয়।
সন্ধ্যায় লোক এসে বাসর ঘর সাজিয়ে দিয়ে গেলো, কেয়া আমার ঘরে এলো। যানো তাইয়্যেবা আমি আরো পরে বিয়ে করতাম কেনো যানি মনে হলো বাচ্চাটা হলে যদি রাজ পাল্টে যায় তাইতো আজ ম*রার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করে বাড়ি এলাম।
অভিনন্দন তোমাকে এতো সুন্দর মুখোশ পড়ে থাকো বলে তবে যা করার করে নেও দুদিন পরে এই মুখোশটা সারা দুনিয়ার সামনে টেনে ছিড়বো বেবি।
ভাঙ্গবে তবু মচকাবে না দেখি কতোদিন এই দেমাগ থাকে হুম, মুখ বেকিয়ে চলে গেল। রাজ বাসতে থাকো সুখের ভেলায়, তোমার এই ভেসে যাওয়া ভেলা যদি মাঝ সমুদ্রে না ফেলি তাহলে আমার নাম তাইয়্যেবা হোসেন না। তোমরা বনের সিংহের সাথে লড়তে এসেছে দেখো কি করি।
মা*রের কারনে রাতে প্রচুর জ্বর আসল, জীবনে কখনো জোরে একটা থাপ্পড় খাই নি সেই আমি লাঠির আঘাত সর্য করলাম।আমি সারারাত ব্যথায় ছটফট করছি আর তারা সুখের সাগরে ভাসছে, মেহের আর মিরাজ আমার কাছে ছিলো যখন দেখল ভোরের দিকে জ্বর কিছুতেই কমছে না তখন শ্বাশুরীকে বলে ডাক্তার ডাকতে। শোন মেহের ডাক্তার ডাকতে হবে না নাপা খাওয়া জ্বর কমে যাবে, আমার এখন অনেক কাজ ওরা উঠে নাস্তা চাইবে। অনেকেই অভিযোগ করেন যে পরের পর্ব খোজে পাচ্ছেন না।
না পাওয়ার কারন হচ্ছে আপনি পেইজে ফলো করেন নাই তাই আমি পোস্ট করার পরেও আপনারা পান না,,আপনাদের সামনে পরে না,,,তাই আমি আবারো বলছি পরের পর্ব গুলো পোস্ট করার সাথে সাথে পেতে
এই পেইজে ফলো দিয়ে রাখুন 👉 Single-লাইফ
চলবে,,,,,
পর্ব - ১
একটু ভালোবাসার ছোঁয়া
সোনিয়া আবেদীন
নেক্সট পার্টগুলো সবার আগে গ্রুপে দেওয়া হবে নীল লেখায় চাপ দিয়ে গ্রুপে জয়েন করুন।এটা রাইটারের নিজের গ্রুপ।
রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প