11/04/2023
রমজান মাসে রোজা রাখার শারীরিক উপকারিতা
রমজান মাসে রোজা রাখাকালীন সময়ে সারাদিন আমরা কোনো খাবার খাইনা। দিনের বেলায় কম খাওয়ার জন্য শারীরিক কিছু জটিল সমস্যা যেমন- হাই কোলেস্টেরল, হার্ট এর রোগ ও স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমে।
রমজানে ইফতারের সময় নানারকম ফলফলাদি খেতে ভালোবাসি আমরা। বেশিরভাগ মানুষই ইফতারে খেজুর বেছে নেন। খেজুর অতি উচ্চ পুষ্টিসম্পন্ন ফল। একটি খেজুরে ৩১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। এতে রয়েছে ফাইবার যা হজমে সহায়তা করে। খেজুরে যথেষ্ট পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন বি ও সামান্য পরিমাণে সোডিয়াম থাকে। খেজুর তাই সুপারফুড হিসাবেও পরিচিত। রমজানে এই ফল প্রতিনিয়ত খেয়ে আমরা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম হই।
মানুষের যুক্তিতর্ক, বিচার বিশ্লেষণ সবই মস্তিষ্কের খেলা। রোজা আমাদের মস্তিষ্ককে সক্রিয় করে তোলে। পানাহার না থাকায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কাজের ধরনে সামান্য পরিবর্তন আসে।বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ব্রেইনে নতুন সেল বা কোষ গঠনে সাহায্য করে রোজা রাখা। একইভাবে রোজা রাখলে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন হরমোন কর্টিসলের পরিমাণ কমার জন্য মানসিক চাপ হ্রাস করে।
রমজানে রোজা রাখলে পাকস্থলী সংকুচিত হয়। যাদের বেশি খাওয়া অভ্যাস তারা পেট ভরে খেলেও মনে করেন পেট হয়তো ভরেনি ফলে বারবার খেতে থাকেন। ওজন বেড়ে তখন তা শরীরের ক্ষতি করে। পাকস্থলী সংকোচনের ফলে কম খাবার খেলেও তা পূর্ণ মনে হয়। যারা ওজন কমাতে চাইছেন রমজান মাসে আল্লাহর রহমতে রোজার ওসিলায় এটি সম্ভব হবে।
কিছু অভ্যাস আছে যা মানুষের শরীরের দীর্ঘমেয়াদী জটিল সমস্যার জন্য দায়ী। যেমন -ধূমপান করা, অতিরিক্ত চা-কফি খাওয়া, চর্বিজাতীয় গোশত মাত্রাতিরিক্ত ভক্ষণ ইত্যাদি। রমজান মাসে আল্লাহ ভয়ে ভীত মুসলিমগণ যখন সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকেন এবং ইবাদত বন্দেগী করেন তখন তাদের মধ্যে এই প্রবণতা কমে যায়। ধূমপানের জন্য অতি অল্প বয়সে ফুসফুস, কণ্ঠনালীর ক্যান্সার হয়। অতিরিক্ত কফি খেলে এই ক্যাফেইন আপনার ঘুমের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে কমিয়ে দিয়ে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলে। চর্বিজাতীয় গোশত অতিরিক্ত খেলে শরীরে ক্ষতিকারক ফ্যাট জমে তা থেকে হৃদপিন্ডের বিভিন্ন অসুখ যেমন – হার্ট এটাক, স্ট্রোক, হার্ট এর নালীতে চর্বি জমা এই সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে। রমজান মাসে রোজা রাখলে এই সমস্যাগুলোর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার মতো সংযমী অভ্যাস আপনার গড়ে উঠবে।
দীর্ঘ অনিয়মের ফলে শরীর অনেকসময় একেবারেই ভেঙে পড়ে। ফলে অকাল বার্ধ্যকের শিকার হন অনেকেই। বার্ধক্য শরীর এবং মন দুটোকেই অসহায় বোধ করায়। রমজান মাসে রোজা রাখলে আয়ু বাড়ে কারণ এটি বার্ধক্যের কারণ জনিত নানা সমস্যার সাথে যুদ্ধ করে মানুষকে টিকে থাকতে সহায়তা করে।
খাবারে অরুচি হওয়া এই প্রজন্মের সাধারণ একটি সমস্যা। দীর্ঘ এক মাস যদি টানা সারাদিন না খেয়ে থাকা হয় তখন জিহ্বা ও লালাগ্রন্থি বিশ্রাম পায়। অনেকক্ষণ পর খাবার খেলে এরা দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে। বেশিক্ষণ না খেয়ে থাকায় খাওয়ার ইচ্ছেও বেড়ে যায় মানুষের। অরুচিজনিত সমস্যা পরিবারের কারো থাকলে তাকে রোজা রাখতে বেশি করে উৎসাহ দিন।