19/08/2024
একজন শিক্ষক হিসাবে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কিছু আবেদন:
আমার অভিমত হলো প্রতিটা শিক্ষক কে প্রতিটা একেকটা ক্লাসের মনিটরিং দায়িত্ব দিতে হবে।
১। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বাচ্চাদের নীতি-নৈতিকতা, আচার-আচরণ, ভিন্ন ধর্ম বা মতাদর্শের প্রতি সম্মান, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা দেয়া যেতে পারে। এই বয়সটাই ভিত্তি। তাদের বইপত্রে এই বাস্তবিক বিষয়গুলো উল্লেখ থাকতে পারে। স্কুলের চারপাশ নিজেরা পরিষ্কার করার মাধ্যমে হাতেকলমে শিক্ষাও দেয়া যেতে পারে।
২। ইংরেজি একটি আন্তর্জাতিক ভাষা। প্রথম শ্রেণী থেকেই তাই ইংরেজি ভাষার উপর জোর দিতে হবে। প্রতিটা স্কুলে এক্সট্রা কারিকুলার হিসেবে স্পোকেন ইংলিশ কোর্সের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।
৩। স্কুলে খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকবে। ডিবেট, সাংস্কৃতিক, বিজ্ঞান ক্লাব থাকবে এবং এসব ক্লাবের কার্যক্রম ভালমতো মনিটর করতে হবে। শুধু নামমাত্র না, সত্যিই যেন বাচ্চারা কিছু শেখে।
৪। শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। স্কুলে সপ্তাহে একদিন করে এইসব বিষয়ে আলাদা করে কাউন্সেলিং ক্লাস হতে পারে। আমাদের স্কুলে মাসে একবার মেডিকেল অফিসার এসে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতেন। এই সিস্টেমটা সব স্কুলে রাখলে ভালো হয়।
৫। রান্নাবান্না, সেলাই, ড্রইং এই বিষয়গুলো একেকটা আর্ট। নাম্বারের জন্য জোর করে এগুলো শেখানোর কোনো মানে হয় না। এইসব বিষয়ে স্কুলে জোর না দিয়ে এর পরিবর্তে ফলপ্রসূ কিছু শেখানো যেতে পারে। যেমন, সেল্ফ ডিফেন্স টেকনিক।
৬। এখন শুনলাম সাইন্স, কমার্স বলে আলাদা কিছু নেই। সবাই সব পড়বে। এটা ভালো। কিন্তু ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে প্রতিটা বিষয় বিস্তারিতভাবে পড়তে হবে। স্কুল লেভেলে এইরকম বিস্তারিত না পড়ে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে একটা গ্যাপ থেকে যাবে। ইংলিশ মিডিয়ামে যেমন বিস্তারিত শেখানো হয়, বাংলা মিডিয়ামের বইগুলোও তেমনই হওয়া উচিত। তাতে যাদের সামর্থ্য নেই ইংলিশ মিডিয়ামে দেয়ার, তাদের মেধাবী বাচ্চাটা পিছিয়ে থাকবে না।
৭। এখনকার কারিকুলামটা সুন্দর। বাচ্চাদের গ্রুপওয়ার্ক, প্রেজেন্টেশন দেয়ার যে ব্যাপারটা, এটা খুব উপকারী। কিভাবে? একসাথে দলগতভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছোট থেকেই হয়ে যাচ্ছে। সবার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের কাজটাকে ব্যাখ্যা করার অভিজ্ঞতা হচ্ছে। সবই ঠিক আছে। কিন্তু এই গ্রুপওয়ার্ক বা প্রেজেন্টেশনের জন্য সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হচ্ছে ইন্টারনেটের ওপর। এখানেই আপত্তি। সবার ইন্টারনেটে প্রপার এক্সেস থাকে না। আমার বইতে কন্টেন্ট থাকা লাগবে। আমি যে বিষয়ে গ্রুপওয়ার্ক করবো বা প্রেজেন্টেশন দিবো, তার বিস্তারিত আমি বইতে পড়বো। আগে পাঠ্যবই, তারপর অন্য কিছু।
৮। গ্রুপওয়ার্কের গ্রুপ এবং টপিক ক্লাসেই ঠিক করে দিয়ে সেই ক্লাসেই করানো উচিত। তাতে কেউ করলো, কেউ করলোনা এই রিস্ক থাকে না। সবার শেখা হয়। পার্টিসিপেশন থাকে সবার।
৯। পরীক্ষা পদ্ধতি আগেরটা ফেরত আনতে হবে। সুষ্ঠু পরীক্ষা যাকে বলে। আমরা বাংলা হয়তো মুখস্থ করেছি, কিন্তু ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, অংক বুঝেই পড়েছি। পরীক্ষায় নিজেরা বুঝেই লিখেছি। সেটাই কি সৃজনশীলতা ছিল না?
বই খুলে, আলোচনা করে আর যাই হোক, পরীক্ষা হয় না। এই পরীক্ষাপদ্ধতি কোনো সৃজনশীল পদ্ধতি না।
১০। রেজাল্ট জিপিএ সিস্টেমে দিতে হবে। প্রতি বিষয়ের নাম্বার পরিষ্কার করে লেখা থাকবে এবং cumulative GPA দেয়া থাকবে। কোনো প্রতীক দিয়ে রেজাল্ট হবে কেন? circle, rectangle এইসব কি!
নতুন যেই আসুক, বাংলা মিডিয়াম নিয়ে আর কোনো এক্সপেরিমেন্ট যেন না হয়!
ধন্যবাদ।
***আর কিছু মনে পড়ছে না। আপনারা চাইলে কমেন্টে এড করে দিয়েন।