নিশি রাতের গল্প

নিশি রাতের গল্প নতুন নতুন ভুতের হল্প পেতে ফলো করে পাশে থাকবেন

 #ছায়ার_অভিশাপ পর্ব-২লেখক:   Sheikhআরিফ যখন লেন্সের ভেতর থেকে নিজের ছোট প্রতিচ্ছবিটিকে দেখতে পেল, সে এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্...
08/05/2026

#ছায়ার_অভিশাপ
পর্ব-২
লেখক: Sheikh

আরিফ যখন লেন্সের ভেতর থেকে নিজের ছোট প্রতিচ্ছবিটিকে দেখতে পেল, সে এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে ছিল। তার ঘরের দরজা, জানালা—সবকিছুই তখন যেন লেন্সের কাঁচের মতো পাতলা হয়ে গেছে। সে অনুভব করল, তার শরীরের ওপর দিয়ে কেউ হেঁটে যাচ্ছে, কিন্তু সে কাউকে দেখতে পাচ্ছে না। পায়ের ভারে মেঝেটা যেন প্রতিবার আর্তনাদ করে উঠছে।
​হঠাৎ সে লেন্সের ভেতর থেকে আওয়াজ শুনতে পেল, "আরিফ, ক্যামেরাটা ফেলে দাও! লেন্সটা ভাঙো!" আরিফ চমকে উঠল। এই লেন্সটা তো সে নিজেই কিনেছে, তাহলে লেন্সের ভেতর থেকে কে তাকে ডাকছে? সে কাঁপাকাঁপা হাতে মেঝে থেকে লেন্সটা কুড়িয়ে নিল। কিন্তু লেন্সটা ধরার সাথে সাথেই সে অনুভব করল, তার হাতের চামড়া পুড়ে যাচ্ছে। লেন্সটা এখন আর কাঁচের মতো ঠান্ডা নেই, বরং আগুনের মতো গরম হয়ে গেছে।
​আরিফ লেন্সটা মেঝেতে আছাড় মারল। কিন্তু আশ্চর্য! লেন্সটা ভাঙল না, উল্টো মেঝেতে লেন্সের আকারটা বড় হতে শুরু করল। মেঝেতে একটা কালো গর্ত তৈরি হলো, যা ঠিক একটা ক্যামেরা লেন্সের মতো দেখাচ্ছে। সেই গর্তের গভীর থেকে ভেসে এল হাজার হাজার মানুষের কান্নার শব্দ। আরিফ বুঝল, এই লেন্সটি কেবল কোনো কাঁচের টুকরো নয়, এটি কোনো এক অশুভ শক্তির 'চোখ', যা বছরের পর বছর ধরে মানুষের আত্মা বন্দি করে রাখছে।
​সে দ্রুত ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করল। করিডোরে বেরিয়ে দেখল, দেয়ালের ছবিগুলো সব উল্টে গেছে। কিন্তু প্রতিটি ছবির মানুষের চোখগুলো যেন তাকেই অনুসরণ করছে। আরিফ সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করল। নিচের তলায় নামতেই তার মনে হলো, কেউ একজন তার ঘাড়ে ফু দিচ্ছে। সে পেছনে ফিরল, কিন্তু পেছনে কেউ নেই। তবে দেয়ালের ছায়াগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, ছায়াগুলো এখন আর আরিফের শরীরের সাথে মিলছে না। ছায়াটা এখন দেয়াল থেকে আলাদা হয়ে গেছে এবং তার পেছন পেছন হেঁটে আসছে।
​আরিফ দৌড়াতে শুরু করল। সে নিচে নেমে দেখল সদর দরজাটা খোলা। সে বাইরের রাস্তা দিয়ে দৌড়াতে থাকল। কিন্তু যতবারই সে দৌড়ায়, সে আবার সেই একই জায়গায় ফিরে আসে। রাস্তার ধারের ল্যাম্পপোস্টগুলো একে একে নিভে যাচ্ছে। প্রতিটা নিভে যাওয়ার সাথে সাথে বাতাসের শব্দটা আরও ভারী হয়ে আসছে।
​সে রাস্তার শেষ মাথায় এসে দেখল, সেই পরিত্যক্ত দোকানটি—যেখান থেকে সে লেন্সটি কিনেছিল। দোকানটা এখন আর পরিত্যক্ত নয়। ভেতর থেকে হলুদ আলো আসছে। আরিফ ভেতরে ঢুকল। দোকানের মালিক নেই, কিন্তু দোকানের কাউন্টারে রাখা অসংখ্য লেন্স। প্রতিটি লেন্সের ভেতর দিয়ে একটা করে চোখ তাকিয়ে আছে। আরিফ দেখল, দোকানের দেয়ালে তার নিজের লেন্সটার মতোই হাজার হাজার লেন্স ঝোলানো।
​সে বুঝতে পারল, এটা কোনো সাধারণ দোকান নয়। এটা সময়ের এক বিশাল সংগ্রহশালা। প্রতিটি লেন্সের পেছনে একেকটা মানুষের নাম লেখা। আরিফ তার নিজের নাম লেখা লেন্সটি খুঁজছিল। হঠাৎ সে দেখল, একটা লেন্সের পেছনে লেখা— "আরিফ: পর্ব শেষ"।
​ঠিক সেই মুহূর্তে দোকানটি কাঁপতে লাগল। দোকানের সব লেন্স একসাথে জ্বলে উঠল। আরিফ দেখল, দোকানের মালিকটি এখন তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তার কোনো মুখ নেই, শুধু চোখ। সে আরিফের দিকে এগিয়ে এসে বলল, "তুমি অর্ধেকটা দেখেছ, আরিফ। বাকিটা দেখার জন্য তোমাকে আমার সাথে ওই লেন্সের ভেতরেই থাকতে হবে।"
​আরিফ চিৎকার করে উঠল, কিন্তু তার কন্ঠস্বর এখন দোকানের অন্য লেন্সগুলোতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। সে দেখল, তার শরীরটা লেন্সের ভেতরে টেনে নেওয়া হচ্ছে—ঠিক যেভাবে আলো ক্যামেরার সেন্সরে ধরা পড়ে। সে এখন দেখছে, দুনিয়াটা লেন্সের ভেতর থেকে কেমন লাগে। সে দেখছে, লেন্সের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল ছায়ামূর্তি, যে তার ক্যামেরাটা হাতে নিয়ে ছবি তুলছে। আর প্রতিটা ক্লিকে আরিফের আত্মা এক একটি স্থিরচিত্র হয়ে দেয়ালে ঝুলে যাচ্ছে।

আরিফ পেশায় একজন ফটোগ্রাফার। সে সবসময় নতুন কোনো জায়গার খোঁজে থাকে যেখানে কেউ সহজে যায় না। সে তার ক্যামেরায় এমন কিছু লেন্স...
06/05/2026

আরিফ পেশায় একজন ফটোগ্রাফার। সে সবসময় নতুন কোনো জায়গার খোঁজে থাকে যেখানে কেউ সহজে যায় না। সে তার ক্যামেরায় এমন কিছু লেন্স ব্যবহার করে যা খালি চোখে যা দেখা যায় না, তা-ও মাঝে মাঝে ধরা পড়ে। ঠিক এক মাস আগে, সে দূরের এক পরিত্যক্ত জনপদ থেকে একটা পুরনো লেন্স কিনেছিল। লেন্সটা ছিল অদ্ভুত রকমের কালো, যেন তার ভেতর দিয়ে তাকালে পৃথিবীটা ধূসর হয়ে যায়।
​সেই লেন্সটা লাগানোর পর থেকেই আরিফের জীবনে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে শুরু করল। প্রথম দিকে সে বুঝতেই পারেনি। সে যখনই লেন্স দিয়ে ছবি তুলত, ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে সবসময় একটা লম্বা ছায়া দেখা যেত। ছায়াটা মানুষের আকৃতির, কিন্তু হাতগুলো অস্বাভাবিক রকমের লম্বা। আরিফ ভাবল হয়তো লেন্সের কোনো কারিগরি ত্রুটি বা আলোর প্রতিফলনের সমস্যা।
​সেদিন ছিল পূর্ণিমা। আরিফ তার ঘরের জানালার পাশে বসে লেন্সটা পরিষ্কার করছিল। হঠাৎ সে লেন্সের ভেতর দিয়ে তাকিয়ে দেখল, তার নিজের ছায়াটা দেয়ালে স্থির হয়ে আছে, অথচ সে নিজে হাত নড়াচড়া করছে। তার নিজের ছায়াটা যেন তার শরীরের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে না। আরিফের মেরুদণ্ড দিয়ে একটা হিমস্রোত বয়ে গেল। সে লেন্সটা নামিয়ে রাখল, কিন্তু তার ছায়াটা দেয়াল থেকে সরে গিয়ে ঘরের কোণায় অন্ধকার এক জায়গায় গিয়ে লুকিয়ে পড়ল।
​সেই রাত থেকেই আরিফের ফ্ল্যাটে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু। মাঝরাতে সে শুনতে পেত, কেউ তার ড্রয়ারগুলো খুব ধীরে ধীরে খুলছে এবং বন্ধ করছে। খট-খট শব্দ। আরিফ বিছানায় জড়সড় হয়ে পড়ে থাকত। সে সাহস করে ড্রয়ারের দিকে তাকিয়ে দেখল, সেখানে কিছু নেই। কিন্তু ড্রয়ারটা নিজে থেকেই আবার বন্ধ হয়ে গেল। আরিফ লাইট জ্বালানোর জন্য সুইচ টিপল, কিন্তু বাতি জ্বলল না।
​হঠাৎ তার কানের কাছে ফিসফিসানি শোনা গেল। কোনো পরিচিত কণ্ঠ নয়, যেন অনেকগুলো কণ্ঠ একসাথে মিশে আছে। "আমাদের আলো দিয়েছো, এবার আমাদের অন্ধকার কেড়ে নাও..."
​আরিফ ভয়ে দৌড়ে বাথরুমের দিকে গেল মুখ ধোয়ার জন্য। বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে সে আয়নায় নিজের দিকে তাকাল। আয়নায় সে নিজের চেহারা দেখতে পাচ্ছে, কিন্তু তার চোখ দুটো নেই। আয়নার ভেতরে তার দুই চোখের জায়গায় এখন দুটো গর্ত, আর সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। আরিফ আর্তনাদ করে আয়নাটা হাত দিয়ে ঢেকে দিল। কিন্তু আয়নাটা কাঁচের মতো ছিল না, বরং সেটা ছিল নরম মাংসের মতো! তার হাতটা আয়নার ভেতরে ঢুকে গেল। ওপাশ থেকে কেউ একজন তার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরল।
​আরিফ দেখল, আয়নার ওপাশ থেকে একটা কঙ্কালসার হাত বেরিয়ে আসছে। সেই হাতের আঙুলগুলো লম্বা এবং তার নখগুলো দিয়ে আয়নার স্বচ্ছ পৃষ্ঠ চিরে যাচ্ছে। আয়নার ওপাশ থেকে ভেসে এল সেই একই কণ্ঠ— "আমরা লেন্সের ভেতর ছিলাম, এখন আমরা তোমার ভেতরে ঢুকব।"
​আরিফ কোনোমতে হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে ঘরের দরজা খুলতে চাইল। কিন্তু দরজাটা খুলছে না। সে জানালার দিকে দৌড়ে গেল, কিন্তু জানালাটা খুলতেই সে আকাশ দেখতে পেল না, সে দেখতে পেল বিশাল এক গহ্বর, যেখানে অগণিত মানুষের চেহারা ভাসছে। সেই চেহারার মধ্যে একটি চেহারা ছিল আরিফের নিজের।
​আরিফ তখন বুঝতে পারল, সে আর নিজের ঘরের ভেতর নেই। সে কোথায় আছে, তা তার জানা নেই। তার চোখের সামনে ধীরে ধীরে সব কিছু অন্ধকার হতে লাগল। সে তার লেন্সটা মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখল। সেই লেন্সের ভেতরে এখন আরিফের নিজের একটা ছোট প্রতিচ্ছবি বন্দী হয়ে আছে, যে বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য লেন্সের দেয়ালে ঘুষি মারছে।
চলবে......

ছায়ার অভিশাপ

লেখক:- SA Sadiya

পর্ব:- ০১

04/05/2026

আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন?
পাশে থাকবেন
কিছুদিন পর থেকে আবারও গল্প দেবো
ইনশাআল্লাহ

গল্প:- “তিনতলার আলো”লেখিকা : সাদিয়া ইসলাম (সুমাইয়া) তারিখ:- ৩/৭/২০২৫ তিনতলা বাড়ির নিচতলায় ভাড়া নিই আমি, নতুন চাকরি, নতুন...
03/07/2025

গল্প:- “তিনতলার আলো”
লেখিকা : সাদিয়া ইসলাম (সুমাইয়া)
তারিখ:- ৩/৭/২০২৫
তিনতলা বাড়ির নিচতলায় ভাড়া নিই আমি, নতুন চাকরি, নতুন শহর।
বাসাটা পুরনো, সিঁড়ির কার্নিশে বাদুড় ঝুলে থাকে রাতে।
ঘুমোতে যাওয়ার সময় প্রায়ই ওপরের তলার জানালা থেকে আলো আসতে দেখতাম—দপদপ করে জ্বলছে, নিভছে।

কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো—ওই তিনতলাটা নাকি ফাঁকা।
অনেকে বলেছে, “ওখানে আগে এক ছেলেকে খুন করে ছাদে পুঁতে রাখা হয়েছিলো। সেই থেকেই নাকি…”

আমি পাত্তা দেইনি।

এক রাতে অনেক কাজ ছিলো, ল্যাপটপে বসে আছি। হঠাৎই তিনতলার জানালা থেকে একটা আলো সরাসরি আমার ঘরের মেঝেতে পড়ে—নীলচে আলো, যেন কারও চোখ।
আমার মাথা ভার হয়ে এলো, বুক ধড়ফড় করতে লাগল।

হুট করে জানালা বন্ধ হয়ে গেল।

রাত ৩টা।
বাইরের করিডোরে কার যেন পায়ের শব্দ—ক্লিক ক্লিক ক্লিক।
কেউ সিঁড়ি দিয়ে নামছে, ধীরে… ভারী পায়ের আওয়াজ।

আমি কাঁপা গলায় দরজায় চোখ রাখলাম। কেউ একটা দাঁড়িয়ে। পা দেখা যাচ্ছে, কিন্তু শরীরের ওপর দিক অন্ধকারে।

“ভুলে গেছো আমাকে?”
একটা কণ্ঠ।
চেনা। কেমন যেন ঠান্ডা, ঝিরঝিরে।
“তিন বছর আগে যার চোখের সামনে আমাকে ফেলে পালিয়ে গিয়েছিলে, আমি ফিরেছি...”

আমার মাথা চক্কর দিয়ে উঠল।
সেই রাত… সেই স্কুল ট্যুর… বাঁচার জন্য বন্ধুকে রেখে পালিয়ে গিয়েছিলাম।

আমি দরজা খোলার আগেই দপ করে লাইট নিভে গেল।
আর যেটুকু আলো ছিল, তা শুধু ঘরের আয়নায় পড়ে রইল। আয়নায় আমি দাঁড়িয়ে, কিন্তু আমার মুখ নেই।
----
> 🔥 রাত ৩টায় সিঁড়ির আওয়াজ শুনলে, আয়নার দিকে তাকিও না…
হয়তো যাকে দেখছো, সে “তুমি” না…....
সমাপ্ত...
FOLLOW:- নিশি রাতের গল্প

গল্প:- “ছাদে কে ছিল?”লেখক:- রায়হান শেখ তারিখ:- ০২/০৭/২০২৫ রাত সাড়ে ৩টা।মেসে সবাই ঘুমিয়ে, শুধু আমি আর ফাহিম জেগে আছি। হঠা...
02/07/2025

গল্প:- “ছাদে কে ছিল?”
লেখক:- রায়হান শেখ
তারিখ:- ০২/০৭/২০২৫
রাত সাড়ে ৩টা।
মেসে সবাই ঘুমিয়ে, শুধু আমি আর ফাহিম জেগে আছি। হঠাৎ ছাদের দিক থেকে শব্দ আসতে লাগল—টিক টিক টিক করে কেউ যেন হেঁটে বেড়াচ্ছে।

আমি বললাম, “ফাহিম, তোরা উপরে গেলি?”
সে চোখ বড় করে বলল, “ভাই আমি তো তোকে নিচেই বসে দেখতেছি!”

ছাদে উঠলাম আমরা দুইজন। কেমন একটা ঠান্ডা হাওয়া বইছে। বাতাসে একটা পুরনো আগুন পোড়া গন্ধ। আলো ফেলতেই দেখি—ছাদের এক কোনায় একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে। চুলগুলো ভিজে, মাথা নিচু করে। গায়ের কাপড় পুরোটাই সাদা, কিন্তু যেন ছাই দিয়ে মাখানো।

আমি ডাক দিলাম—“কে ওখানে?”
সে নড়ল না। হঠাৎ অন্ধকার থেকে একটা আওয়াজ এল, যেন কেউ কাঁদছে... “আমার ছেলে কোথায়...?”

আমরা দৌড় দিতে যাচ্ছি, পিছন থেকে সেই মেয়ে ফিসফিস করে বলল—
“তোমরা আমার ছেলের নাম নিয়েছো... এখন তোমরা কেউ বাঁচবে না।”

বাতি নিভে গেল এক ঝটকায়। যখন জ্ঞান ফিরল, দেখি আমরা নিচে পড়ে আছি, ফাহিমের গলা ফুলে গেছে, আর আমার হাতে কে যেন লাল কালি দিয়ে লিখে দিয়েছে—

“ওর নাম ভুলে যেও না…”

---
[রাত ৩টার পর ছাদে ওঠার আগে একবার ভাবো...
কার নাম ভুল করে ডাক দিচ্ছো তুমি?]
সমাপ্ত.
নতুন নতুন ভয়ংকর সব গল্প পেতে এখনই পেজটা ফলো করে রাখুন

গল্প:"ছায়ার নিচে"২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস। আমি তখন ঢাকা থেকে ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসেছি, মানিকগঞ্জের এক পুরনো গ্রামে। ...
29/06/2025

গল্প:"ছায়ার নিচে"
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস। আমি তখন ঢাকা থেকে ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসেছি, মানিকগঞ্জের এক পুরনো গ্রামে। আমাদের পুরনো বাড়িটা প্রায় ৮০ বছরের পুরনো। দাদার আমলের কাঠের দরজা, ছাদের ওপরে বড় বড় কড়ই গাছের ছায়া, আর একটা ঘড়ির কাঁটা যা মাঝেমধ্যেই সময়ের বাইরে চলে যায়।

কিন্তু সবকিছুর মাঝেই অদ্ভুত এক শান্তি ছিল। হয়তো আমি শহরের ব্যস্ততা থেকে ছুটে এসে সেই নির্জনতা খুঁজছিলাম। কিন্তু… শান্তির ছদ্মবেশের নিচে যে কী লুকানো ছিল, তা আমি জানতাম না।

🕯️ রাত ৩টা—

তখন একরাশ বৃষ্টি হয়েছে, চারপাশে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ থেমে গেছে, এবং হঠাৎ করেই আমাদের বারান্দার বাতিটা নিভে গেল।

আমি বাইরে তাকিয়ে দেখি— সামনের কড়ই গাছের নিচে একটা ছায়া দোল খাচ্ছে। গাছ না নড়ছে, বাতাস নেই, কিন্তু ছায়াটা দুলছে। প্রথমে ভাবলাম চোখের ভুল।

তবে ভুলটা তখনি ভাঙল যখন ছায়াটা ধীরে ধীরে গাছের নিচ থেকে উঠতে শুরু করল। কীভাবে বলবো… যেন কোনো অদৃশ্য কিছু মাটির নিচ থেকে উঠে আসছে।

আমি দৌড়ে ঘরে চলে গেলাম। দরজা আটকালাম। জানালার পর্দা দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম— ছায়াটা এখন বাড়ির দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু সে ছায়া তো কারো নয়! না কোনো মানুষের, না কোনো প্রাণীর।
তখন মনে হলো, এটাই সেই "ছায়া"— যার কথা ছোটবেলায় দাদি বলতেন।

> “ছায়ার নিচে দাঁড়াস না রে, সেখানে কেউ থাকে... তোর ছায়াটাকেই খেয়ে ফেলবে।”
📖 পরের দিন…

সকালে সব স্বাভাবিক। বাড়ির কেউ কিছুই টের পায়নি। আমি শুধু চুপচাপ ছিলাম। ভেবেছিলাম কল্পনা।

কিন্তু তিন দিন পর, আমার ছোট ভাই রাকিব বললো—
“ভাই, রাতে কড়ই গাছের নিচে এক ছায়া দেখি… কেউ যেন দাঁড়িয়ে ছিল, খুব লম্বা আর চোখে লাল আলো।”
সে রাতে রাকিব ঘুমায়নি। আর সেই রাতের পর থেকেই সে হঠাৎ ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠে বলে—
“আমার ছায়াটা আমাকেই দেখতে থাকে!”

আমরা ওর ঘরের আয়নায় ওর পেছনে আরেকটা ছায়া দেখে ফেলি— যা ওর নিজের ছায়া নয়!

একদিন সাহস করে আমরা গাছটা কাটার সিদ্ধান্ত নিই। সেই কড়ই গাছটা।
কিন্তু কাঠুরে এসে কাজ শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যেই তার হাত কেটে যায় — আর তার মুখ থেকে শুধু একটা কথাই বের হয়:

> “এই গাছের নিচে কেউ আছে! সে চায় না ওকে সরানো হোক!”

সেই রাতে আমাদের বাড়ির ছায়া ঘন হয়ে যায়। আলো জ্বালালেও ছায়া কমে না।
আমার নিজেরই ছায়া একসময় আমার পেছনেই ঘোরে — আমি যেখানে যাই, ছায়াটা যেন নিজের মতো করে হাঁটে

এক রাতে আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করছিলাম। হঠাৎ আয়নার ছায়াটা আমার মতো নড়ল না।
আমি থেমে গেলাম।

কিন্তু আয়নার ভেতরের “আমি” তখন হেসে উঠল।
না, আমি হাসিনি। কিন্তু সে হাসল।

তারপর সে বললো—

> “তুই নিজেকে বাঁচাতে পারবি না… কারণ তুই এখন আমার ছায়া
পরদিন আমাকে আমার মা খুঁজে পায়নি।
ঘরের আয়নার সামনে একটা ছায়াহীন শরীর পড়ে ছিল।
আর আয়নায় ঠিক সেই জায়গায় এখনো দাঁড়িয়ে আছে আমি। না না, আমি না... "ওটা"।
FOLLOW... নিশি রাতের গল্প

গল্প:-“ঘরের কোণায় দাঁড়িয়ে ছিল…”লেখক:- Rayhan Sheikh Date: 28 june 2025.....................................................
28/06/2025

গল্প:-“ঘরের কোণায় দাঁড়িয়ে ছিল…”
লেখক:- Rayhan Sheikh
Date: 28 june 2025..............................................................
ছোট থেকেই আমি একটু নরম স্বভাবের।
একলা ঘরে ঘুমাতে পারতাম না।
আমার দাদার পুরনো বাড়িটা ছিল গ্রামের একদম শেষ প্রান্তে, বাঁশঝাড়ের পাশ ঘেঁষে।

দাদার মৃত্যুর পরে আমি ওখানে প্রায় দশ বছর যাইনি।
কিন্তু কয়েক মাস আগে, বাবার অসুস্থতায় আমাকে একরাতের জন্য গ্রামে যেতে হয়েছিল।

সেই রাতটা আমি কোনোদিন ভুলতে পারবো না।

ঘরের ভেতর জিনিসপত্র গুছিয়ে যখন দরজা বন্ধ করলাম, তখন রাত প্রায় ৩টা।
হঠাৎ লক্ষ্য করলাম — ঘরের এক কোণায় অন্ধকারে কিছু একটা দাঁড়িয়ে আছে।

আমি প্রথমে ভেবেছিলাম জামাকাপড়।
কিন্তু ওটা একদম স্থির, অস্বাভাবিক রকম ভাবে নিঃশব্দ।

আমি মোবাইলের ফ্ল্যাশ অন করলাম।
ফ্ল্যাশ লাগতেই "ওটা" হঠাৎ একটু নড়ল!
শুধু মাথাটা বাঁদিকে কাত করে তাকিয়ে ছিল আমার দিকে… কোনো মুখ ছিল না, শুধু এক জোড়া লালচে আলো মতো চোখ।

আমার শরীর তখন পাথরের মতো ভারী হয়ে যায়।
চিৎকার করতে চাইলেও গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছিল না।

তখন হঠাৎ করেই লাইট চলে যায়।

সব অন্ধকার।
আর আমি অনুভব করলাম, সেই জিনিসটা ধীরে ধীরে আমার দিকে এগিয়ে আসছে…
হাত-পা ঠিক করে নড়তে পারছিলাম না।

সেই মুহূর্তে বাইরে হঠাৎ গরুর ডাক শোনা গেল।
ঠিক তখনই কিছু একটা যেন জানালার পাশ দিয়ে চলে গেল… যেন কেউ ছুটে পালালো!

আমি দৌড়ে দরজা খুলে বাইরে বের হয়ে পড়ি।
সেই রাতের পরে আমি আর কোনোদিন সেই ঘরে ঢুকিনি।

কেউ বিশ্বাস করুক বা না করুক…
ঘরের কোণায় কেউ দাঁড়িয়ে ছিল। #ভয়ংকরগল্প #ভূতেরগল্প #বাংলাহরর #রাত৩টারগল্প #হররবাংলা
FOLLOW : নিশি রাতের গল্প

গল্প: "আয়নার অন্য পাশে"সন্ধ্যার সময়। বৃষ্টি নামার আগের গা ছমছমে নীরবতা। আমি একা বাসায়, মা-বাবা গ্রামে গেছে কয়েকদিনের জন্...
28/06/2025

গল্প: "আয়নার অন্য পাশে"
সন্ধ্যার সময়। বৃষ্টি নামার আগের গা ছমছমে নীরবতা। আমি একা বাসায়, মা-বাবা গ্রামে গেছে কয়েকদিনের জন্য। হঠাৎ মনে হলো ওয়াশরুমের আয়নাটা অনেক দিন পরিষ্কার করা হয়নি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমি কাপড় দিয়ে মুছতে মুছতে হঠাৎ থমকে গেলাম।

কারণ… আয়নায় আমি তাকিয়ে থাকলেও, প্রতিচ্ছবিটার চোখ আমার চোখের থেকে একটু আলাদা দিকে তাকিয়ে ছিল। একটা মুহূর্তের জন্য মনে হলো ওটা যেন... হেঁসে ফেলল। ঠাণ্ডা একটা ঘাম আমার পিঠ বেয়ে নেমে গেল।

আমি চোখ কচলে আবার আয়নার দিকে তাকালাম। প্রতিচ্ছবিটা তখনও দাঁড়িয়ে, কিন্তু এবার আমি যা করলাম—আয়নার মানুষটা তা করলো না। আমি হাত তুললাম, কিন্তু সে নড়ল না।

একটা ফিসফিসে আওয়াজ কানে এল, মনে হলো ঠিক পাশেই কেউ বলল, "তুমি আসল না… আমি?"

আমি পিছিয়ে আসতে যেতেই আলোটা দপ করে নিভে গেল। পুরো ঘরটা অন্ধকার হয়ে গেল কয়েক সেকেন্ডের জন্য। তারপর আবার আলো এল, কিন্তু আয়নায় তখন আমি একা ছিলাম না—আমার পাশেই একটা ছায়ামূর্তি, যার মুখটা ধীরে ধীরে আমার মতোই হয়ে যাচ্ছিল।

আমি দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম, কিন্তু আমার ভয় এখানেই শেষ হয়নি।

রাত ৩টায় ঘুম ভেঙে গেল—আয়নার দিক থেকে আবার সেই আওয়াজ ভেসে আসছে,
"এইবার তোর পালা, আয়নার ভেতরে আয়..."
_________

সব আয়না সত্যি কথা বলে না... কিছু আয়না শুধু অপেক্ষায় থাকে। আজ রাত ৩টায় আয়নার দিকে একবার তাকিয়ে দেখো।"..........
"যে আয়না তোমার প্রতিচ্ছবি দেখায়, সে কি সত্যিই তোমারই?" সমাপ্ত

নিশি রাতের গল্প

"নিমতলার বাড়ি"শেষ পর্ব....... ------------------------------------------------সেদিন রিফাত স্থির করল, সে চলে যাবে।কিন্তু ...
27/06/2025

"নিমতলার বাড়ি"
শেষ পর্ব.......
------------------------------------------------
সেদিন রিফাত স্থির করল, সে চলে যাবে।
কিন্তু যাবার আগের রাতে সে শেষবারের মতো জানালার পাশে দাঁড়িয়ে পুরো বাড়িটার নীরবতা উপভোগ করতে চেয়েছিল।

হঠাৎ, পুরনো নামায পড়ার ধ্বনি ভেসে এলো ঘরের ভেতর থেকে—
কিন্তু কোনো মানুষ ছিল না।

সে ধীরে ধীরে দরজা খুলে বেরোল…
ঘরের পাশের বারান্দায় এক মহিলা বসে ছিল—পেছন ফিরে, সাদা শাড়ি পরে, মাথা নিচু করে।

সে কাছে যেতেই মহিলা বলে উঠল,

> “আমি এখনো নামাজ শেষ করিনি… তুমি কি বেরিয়ে যাচ্ছো?”

রিফাত পালাতে চেয়েও পা ফেলতে পারছিল না।

মহিলা ঘুরে তাকালো—
চোখ নেই।
শুধু গভীর গর্ত আর একটা কপালে লেখা নাম—
"রিফাত"।
সমাপ্ত
লেখক: রায়হান শেখ

"নিমতলার বাড়ি"পর্ব:৩----------------------------------------------------তৃতীয় দিনে রিফাত বাড়ির পুরনো স্টোর রুম ঘাঁটতে গি...
27/06/2025

"নিমতলার বাড়ি"
পর্ব:৩
----------------------------------------------------
তৃতীয় দিনে রিফাত বাড়ির পুরনো স্টোর রুম ঘাঁটতে গিয়ে একটা আয়না পেল।
পুরনো কাঠের ফ্রেম, আয়নার পেছনে আঁকা অদ্ভুত কিছু চিহ্ন—যার অর্থ সে বুঝতে পারল না।

রিফাত আয়নাটা নিজের ঘরে রেখে দেয়।
রাতে ঘুমাতে গিয়ে একবার তাকাতেই দেখে, আয়নায় সে একা নয়।
আয়নায় তার পাশে এক মহিলা—নিশ্চল, লম্বা চুল, চোখ দুটো কালো গর্তের মতো।
সে পেছনে তাকালো—ঘরে কেউ নেই।
আবার আয়নায় তাকালো… মহিলা এবার তার দিকে এগিয়ে আসছে।

সে দৌড়ে উঠে আয়নার উপর একটা চাদর ফেলে দেয়।

ভোরে উঠে দেখে, আয়না খোলা… আর নিচে লেখা:

“তোমাকে মনে আছে?”
-
চলবে___

Address

Dhaka
Narayanganj
1424

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when নিশি রাতের গল্প posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share