14/03/2025
অপরিচিত থাকাটাই বোধহয় ভালো। পরিচয়ের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, তৈরি হয় সম্পর্ক। সম্পর্কের মাঝে জন্ম নেয় অধিকারবোধ। আর সেই অধিকার থেকে শুরু হয় আপন ভেবে অভিযোগ করার যাত্রা। যেই যাত্রার শেষ পরিণতি সম্পর্কের অবসান বা চরম ভুল বোঝাবুঝির মুখোমুখি হয়ে। একটা পর্যায়ে এসে কেউ থামতে পারে না, রেখেঢেকে কথা বলতে পারে না।
তাইতো তৈরি হয় তিক্ততা। যে তিক্ততা নিয়ে সরে আসা ছাড়া উপায় থাকে না। এই দূরত্ব হয়ত নিজের ভালোর জন্য নয়ত অপর মানুষটাকে মুক্ত করে দেওয়ার জন্য। কারণ কাউকে ধরে রেখে যন্ত্রণা দেওয়ার অধিকার থাকলেও, যার প্রতি আন্তরিকতা থাকে তাকে সেই জ্বালা দেওয়ার চেয়ে মানুষ সবকিছু ছেড়েছুঁড়ে আসতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
অথচ একসময় মানুষটা হয়তো সবচেয়ে প্রিয় ছিল। তার সাথে কথা না হলে পেট গুড়গুড় করত, সুন্দর বিকেল ফাঁকা লাগতো। হয়তো আজও সে প্রিয়ই আছে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আজ কেউ কাউকে আর পরিচিত নামে ডাকে না। বলতে পারে না "আরে আমি চিনি তো তাকে", কারণ অধিকার হারিয়ে যায় কোনো এক কালবৈশাখী ঝড়ের দমকা হাওয়ায়।
পরিচিত হলেই ভয় থাকে অপরিচিত হওয়ার। কাছে আসলেই দূরত্বের দুর্যোগ মাথার উপর ঘুরতে থাকে। আন্তরিকতার অপর পিঠে লেগে থাকে তিক্ততা। তাই এত ভয়, এত সংশয়, একটু কাছে আসা নিয়ে, একটু আন্তরিকতা প্রকাশ করা ঘিরে, সামান্য পরিচিত হতে গেলেও। কখন না ভেঙে যায় দেয়াল, কখন না ভেঙে যেতে হয় নিজেকে, ভাঙতে হয় তাকে।
এরচেয়ে অপরিচিত হয়ে বেঁচে থাকা সুন্দর। ভালোবাসা, আন্তরিকতা, প্রিয়'র তকমা, ঘনিষ্ঠতার নজির নাই-বা তৈরি হলো। অন্তত বেঁচে গেল তাতে ঘৃণা তৈরি হওয়ার সুযোগ, তিক্ততা সৃষ্টি হওয়ার পরিস্থিতি, দূরত্বের মতো ভয়াবহ বিচ্ছেদ। থাকুক দুই-একটা কথা, গায়ে লাগুক অপরিচিতর তকমা, না জুটুক কারোর ভালোবাসা। তবুও অপরিচিত হয়ে বেঁচে থাকা সুখের।