খবর ১০১

খবর ১০১ খবর ১০১

22/06/2026

ইসরাইলের মিডিয়াগুলো পর্যবেক্ষণ করছিলাম গত কয়েক দিন ধরে। এদের টেলিভিশনের টকশোগুলো বেশ জমে উঠেছে! নিজেরা নিজেরা ঝগড়াঝাঁটি করছে- কত বড় পরাজয় হয়েছে। কোথায় কত বড় ক্ষতি হলো ইত্যাদি নিয়ে রীতিমত ঝড় উঠেছে ইসরাইলের মিডিয়াগুলোতে।

এদিকে ইজরাইলের হিব্রু ইউনিভার্সিটি একটা জরিপ করেছে। ওই জরিপে ইসরাইলের নাগরিকদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল

- Who do you think won this war? ( এই যুদ্ধে কারা জয়ী হয়েছে বলে তোমরা মনে করো?)

রেজাল্ট কি আসছে জানেন?

- 92 percent of the respondents said Iran came out ahead. (জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৯২ শতাংশের মতে, ইরানই এই সংঘাতে বিজয়ী হয়ে বেরিয়ে এসেছে।)

আরও ইন্টারেস্টিং হচ্ছে- এই জরিপে ৮২.৯ ভাগ ইসরাইলি মনে করছে- ইরানে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ইসরাইলের নিরাপত্তা লম্বা সময়ের জন্য হুমকির মুখে পড়েছে।

মানেটা খুব সহজ। নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি ঘটিয়ে দিয়েছে ইরান। কিন্তু তাই বলে ভাববেন না- ইসরাইলের লোকজন একজন ভালো প্রধানমন্ত্রীকে ভোট নিয়ে নির্বাচিত করবে। ভুল। ভয়ানক ভুল। এই মুহূর্তে ইসরাইলে বিরোধী দলীয় নেতাদের মাঝে সব চাইতে আলোচিত নাম হচ্ছে নাফতালি বেনেট।

তো, নাফতালি দিন কয়েক আগে নামকরা ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানের শোতে গিয়েছে। মরগান তাঁকে জিজ্ঞেস করেছে

- What will you do if you are elected? ( নির্বাচিত হলে তুমি কী করবা?)

সে কি উত্তর দিয়েছে জানেন? সে বলেছে

- I will be Iran's worst nightmare ( আমি ইরানের জন্য সবচেয়ে খারাপ দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠব।)

সে আরও বলেছে- ইরান নাকি পুরো পৃথিবীর জন্যই হুমকি। তাহলে বুঝতে পারছেন তো ব্যাপারটা? নেতানিয়াহুকে বিদায় দিয়ে ইসরাইলিরা আরও খারাপ নেতাকে নির্বাচিত করতে যাচ্ছে। আর এটাই ইজরাইল।

তাহলে ইরানের এখন কী করা উচিত? আপাতত আজকে সুইজারল্যান্ডে অ্যামেরিকা এবং ইরানের মাঝে প্রথম রাউন্ড আলোচনা হয়েছে। অ্যামেরিকান সামরিক বিশেষজ্ঞ কর্নেল ড্যানিয়েল ডেভিস জানিয়েছেন

- আজকের আলোচনায় মূলত লেবানন প্রাধান্য পেয়েছে।

অর্থাৎ ইরানিরা প্রথম দিনই বলে দিয়েছে

- লেবানন থেকে ইসরাইলকে সরে যেতে হবে।

আমি ব্যাপারটা অন্য ভাবে দেখছি- অ্যামেরিকাকে আসলে ইরানের সাথে চুক্তি করতে হলে হেজবুল্লাহর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে! ব্রিটিশ স্কাই টেলিভিশনের সামরিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাইকেল ক্লার্ক আজ বলেছেন

- The United States will now have to ensure Hezbollah’s security. ( অ্যামেরিকাকে এখন হেজবুল্লাহর নিরাপত্তা দিতে হবে!)

আমি ওর আলোচনা শুনে হাসছিলাম। কী দিন আসলো- এখন ইসরাইলের হাত থেকে হেজবুল্লাহকে নিরাপত্তা দিতে হবে অ্যামেরিকাকে! অথচ অ্যামেরিকা হেজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মনে করে। এখন শুনতে হচ্ছে- অ্যামেরিকা নাকি ওদের নিরাপত্তা দিবে!

সব চাইতে মজার কথা আজ বলেছেন অ্যামেরিকান সামরিক বিশেষজ্ঞ কর্নেল ম্যাক-গ্রেগর। তিনি বলেছেন

- A divorce is happening between America and Israel ( অ্যামেরিকা এব ইসরাইলের মাঝে ডিভোর্স হচ্ছে)

কিন্তু ট্রাম্প তো আজকেও বলেছে

- Iran must stop ‘proxies’ in Lebanon (ইরানকে লেবাননে তাদের প্রক্সি বাহিনীগুলো বন্ধ করতে হবে।)

আমি কর্নেল ম্যাক-গ্রেগরের সাথে একমত নই। আমার ধারণা ইসরাইল এবং অ্যামেরিকার সাথে এই মুহূর্তে ঝগড়াঝাঁটি চলছে। এখনও পুরো ডিভোর্স হয় নাই। আরেকটু কাব্যিক ভাষায় বললে- যে কোন সম্পর্কে যখন তৃতীয় পক্ষ এসে হাজির হয়। তখনই সাধারণত সম্পর্কগুলো নড়বড়ে হয়ে যায়।

ইরানকে এই তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নিতে হবে। আর এ জন্য ইরানকে সামরিক দিক থেকে আরও অনেক শক্তিশালী হতে হবে। সমস্যা হচ্ছে- সৌদি আরব এবং অন্যান্য আরব দেশগুলো। অ্যামেরিকার দাস এই সৌদি শেখরা এখনও বলছে

- ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানালে আমাদেরও লাগবে।

সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকার দাস আরব শেখগুলোর জন্য পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল যা ইচ্ছা করতে পারছে। তবুও এরা থামছে না। কর্নেল ম্যাক-গ্রেগর আজও বলেছেন

- আমি অবাক হবো না, এই যুদ্ধের পর আরব দেশগুলো মাঝে বেশ কয়েকটা যদি সম্পূর্ণ ভেঙেও যায়।

তিনি এটাও বলেছেন

- কয়েকটা আরব দেশের অস্তিত্বও হয়ত আর থাকবে না।

আজকেই ব্রিটিশ সাংবাদিক অ্যালিস্টার বলেছেন

- বাহরাইনে অ্যামেরিকান ঘাঁটির যে সদর দপ্তর আছে; সেটি আর নতুন করে ঠিক না করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে অ্যামেরিকা।

আপনাদের জানিয়ে রাখি- ইরান এই ঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। অ্যামেরিকা হয়ত এই অঞ্চল থেকে দ্রুতই সরে যাবে। এরপর সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকার দাস আরব শেখদের পরিণতি দেখার অপেক্ষায় থাকলাম।

©️

09/06/2026

আর এটাই কিন্তু প্যাটার্ন। ইসরাইল চাইছে অ্যামেরিকা যে করেই হোক আবার যুদ্ধ শুরু করুক। কোন চুক্তি যাতে না হোক। আর এই জন্যই কিন্তু ওরা গতকাল দক্ষিণ বৈরুতে হামলা করেছে। যাতে যুদ্ধটা বাঁধে।

অ্যামেরিকান ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক তিতরা পার্সি গতকাল রাতেই পোস্ট করে জানিয়েছে

- If Trump doesn’t stand with Israel now, people will say he has abandoned Israel ( যদি ট্রাম্প এখন ইসরায়েলের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে মানুষ বলবে সে ইসরায়েলকে ত্যাগ করেছে)

এরপর পার্সি লিখেছে

- আর যদি ইসরাইলের কথা শুনে যুদ্ধে জড়িয়ে যায়। তাহলে জনগণ বলবে ট্রাম্প ইসরাইলের কথায় উঠবস করে! ইসরাইলই অ্যামেরিকার পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করে দিচ্ছে।

কিন্তু ইরান যেটা করেছে; সেটা হচ্ছে

- কয়েকগুণ বেশি শক্তিতে ইসরাইলকে আঘাত করেছে।

তাই ট্রাম্প বাধ্য হয়েই পোস্ট করে লিখেছে

- ইরান এবং ইজরাইলের উচিত এখনই বোমা হামলা বন্ধ করা।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আজ কী বলেছে জানেন? বলেছে

- অ্যামেরিকার সাহায্য ছাড়া ইসরাইল এই হামলা করতে পারতো না। অ্যামেরিকানরাও আমাদের টার্গেটে আছে।

এটা বলার পর দশ মিনিটও যায় নাই। ট্রাম্প এসে ওই পোস্ট করেছে। তাহলে বুঝেন- কী পরিমাণ ভয় পেয়েছে সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকা এবং ট্রাম্প।

এদিকে ইয়েমেনের হুতিরা ঘোষণা করেছে

- রেড সি (লোহিত সাগরের) বাব আল মান্দেব প্রণালি দিয়ে ইজরাইল এবং ইজরাইলের সাথে সম্পৃক্ত কোন জাহাজ আর যেতে পারবে না। গেলেই হামলা চালানো হবে।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারান্ডি বলেছেন

- আপাতত শুধু ইজরাইলের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ইরানে যদি আঘাত আসে; তাহলে সবার জন্য এই প্রণালিও বন্ধ হয়ে যাবে।

এর মানে হচ্ছে পৃথিবীর প্রায় ৫০ ভাগ তেল-গ্যাস সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাবে। ইরানের হাতে এখন সকল কার্ড। হরমুজ প্রণালি কিংবা বাব আল মান্দেব তো কৌশলগত কার্ড। কিন্তু ওদের সামরিক প্রযুক্তিগুলো দেখেন। ওরা মিসাইল আর ড্রোন প্রযুক্তিতে এভাবে এগিয়ে গেল! কেউ কি ভেবেছিল? কীভাবে এগিয়েছে জানেন?

যুগের পর যুগ পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো ইরানকে পশ্চাদপদ জনপদ হিসেবে প্রচার করেছে। ইরানের সমাজ কিন্তু এমন নয়। ওরা অনেক আধুনিক এবং পড়াশুনা জানা জাতি।

আমাদের সমাজে কী হয়? আমারা কিন্তু লোকে কী বলবে; এই জন্য অনেক কিছু করতে পারি না। যেমন ধরুন আপনি ইংরেজিতে ভালো করে কথা বলা শিখতে চান। কিন্তু কারও সাথে বলতে গেলে হয়ত হাসাহাসি করছে। আপনি এরপর থেমে গেলেন (আমার নতুন ইউটিউব চ্যানেলে এই সামাজিক বিষয় নিয়ে আজ কথা বলেছি। ভিডিওটা কমেন্টে দিয়ে দেব। দেখবেন নিশ্চয়) কিংবা ধরেন আপনি মাস্টার্স পাশ করে মাছ চাষ করতে চান। লোকজন বলবে

- এত পড়াশুনা করে চাষি হয়েছে!

যা হোক, আমরা লোকে কী বলবে ভেবে থেমে যাই কিংবা আমাদের সমাজ আমাদেরকে থামিয়ে দেয়। ইরানে কিন্তু ব্যাপারটা এমন না। আপনার যদি মেধা থাকে। আপনি যদি কোন নতুন বুদ্ধি নিয়ে হাজির হন। ইরানের পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র সেটাকে প্রমোট করে। আজকে অধ্যাপক মারান্ডিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে

- তোমরা কীভাবে এই নিষেধাজ্ঞার মাঝেও এমন উন্নত প্রযুক্তির সামরিক শক্তিতে পরিণত হলা?

অধ্যাপক মারান্ডি হেসে বলেছে

- আমরা চকচকে জিনিসে বিশ্বাসী নই। আমরা কাজে বিশ্বাসী। ইরানে যে কোন জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। আমরা তরুণদের কে উৎসাহ দেই- যার যেই কাজ করতে ভালো লাগে; সেটাই যেন ওরা ঠিক মত করে।

অথচ দেখেন আমাদের সমাজ? যা হোক, অ্যামেরিকান ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফ্রি সাক্সকে আজ জিজ্ঞেস করা হয়েছে

- এখন তাহলে কী হতে যাচ্ছে?

তিনি আজও জোর দিয়ে বলেছেন

- ট্রাম্প যদি মুখ বাঁচাতে চায়। তাহলে ইরান থেকে লেজ গুটিয়ে এখনই চলে আসতে হবে। নইলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।

ট্রাম্প লেজ গুটিয়ে পালাবে কিনা বলতে পারছি না। কিন্তু এই যে ট্রাম্প ইসরাইলকে বোমা হামলা বন্ধ করতে বলেছে। একটা চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে। এটা সম্ভব হয়েছে ইরানের সামরিক সক্ষমতার জন্য।আর এটা ওরা নিজেরা অর্জন করেছে- জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে থাকার জন্য।

এই লেখা শেষ করছি ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্রের আজকের একটা বার্তা দিয়ে। তাঁরা বলেছে

- আমরা আপাতত ইসরাইলে হামলা বন্ধ করলাম। কিন্তু ইসরাইল যদি লেবাননে কিংবা ইরানে আবার হামলা করে; তাহলে ইসরাইলকে মাটির সাথে গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।

হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। ঠিক এ কথাই বলেছে। শুধু ইরানে না, লেবানন সহ অন্য সকল ফ্রন্টে হামলা বন্ধ করতে হবে। নইলে ইসরাইলকে এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে।

সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকা এবং ইসরাইল মিলে ইরানে এসেছিল ওদের সরকার উৎখাত করতে। ওদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাট করতে। এই যুদ্ধ ওরা শুরু করেছিল- ইরানকে ধ্বংস করে দেয়ার প্রতিজ্ঞা করে। আর এখন ইরান ওদেরকে ধ্বংস করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমি গত সপ্তাহের লেখায় বলেছিলাম- ইরান এই যুদ্ধের পর পরাশক্তি হিসেবে পৃথিবীতে আবির্ভূত হবে। ©️

08/06/2026

কিউবা ছোট দেশ হতে পারে। কিন্তু কিউবা ভেনেজুয়েলা নয়। কিউবানরাও ইরানের মত অত্যন্ত গর্বিত জাতি। অ্যামেরিকা ওখানে গিয়েও আঁটকে যাবে। প্রতিটা কিউবান নিজদের নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত লড়াই করবে।

কিউবায় দুইবার গিয়েছি। এতটুকু একটা দেশ। যুগের পর যুগ অ্যামেরিকার হুমকি আর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও টিকে আছে।

যা হোক, আজকের এই লেখা শেষ করছি অ্যামেরিকান অধ্যাপক রিচার্ড উলফ, যিনি অত্যন্ত নামকরা একজন অর্থনীতিবিদ; তাঁর একটা উক্তি দিয়ে। তিনি আজ ড্যনি হাইপং-এর শোতে এসে বলেছেন

- Petrodollar is DEAD as Iran War BURIES US Empire. ( পেট্রোডলার ব্যবস্থা শেষ হয়ে গেছে এবং ইরান যুদ্ধ অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যের কবর রচনা করেছে)

অধ্যাপক রিচার্ড উলফের মত মানুষ এই কথা বলেছে। তাহলে বুঝে নিন- পৃথিবীব্যাপী অ্যামেরিকান Hegemony (প্রাধান্য) কীভাবে কমছে। বেশি দূর যেতে হবে না। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম কয়েকদিন আগে একটা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে তাঁরা বলেছে

- ইউরোপীয়রা চীনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তাহলে কি ইউরোপ আগেই বুঝে গেছে- অ্যামেরিকান সাম্রাজ্য পতনের মুখে?

ওরা যেটা বলতে ভুলে গেছে, সেটা হচ্ছে- শুধু ইউরোপীয়রা না, পুরো পৃথিবীই বুঝে গেছে- অ্যামেরিকার সাম্রাজ্য এখন পড়তির দিকে।

যেই অ্যামেরিকানরা বলেছিল পাঁচ ঘণ্টায় ইরানের সভ্যতা ধ্বংস করে দিবে। সেই ইরান আজ একশতম দিনে এসেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। শুধু দাঁড়িয়ে নেই- অ্যামেরিকাকে সকাল-বিকাল হুমকি দিচ্ছে। আমার তো কেন যেন মনে হয় - এবার ইরানই আগে ইজরাইলে হামলা চালতে পারে! প্রতিরোধ কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী; ইরান সেটা এই ১০০ দিনের প্রতিটা সেকেন্ড, মিনিট এবং ঘণ্টায় দেখিয়ে দিয়েছে।
©

19/05/2026

ইসরায়েল চ্যানেল ১৩:

ইসরায়েল ও আমেরিকা আগামী সপ্তাহে ইরানের ওপর হা/ম/লা পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবর ১০১

#ইরান #আমেরিকা #মার্কিন #আন্তর্জাতিক

16/05/2026

🔴

বড় আশা নিয়ে চীনে গিয়েছিল ট্রাম্প। যাবার ঠিক আগে মুহূর্তেও ট্রাম্প বলেছে

- Iran cannot have nuclear enrichment. ( অর্থাৎ ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করতে পারবে না।)

সে বার বার zero enrichment position নিয়েছে। (মানে ইরান কোন ভাবেই পারমাণবিক বোম বানাতে পারবে না) ওদের সকল ইউরেনিয়াম দিয়ে দিতে হবে। সকল পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলতে হবে। আর চীন সফর শেষে আজ কি বলেছে জানেন? আজ বলেছে

- I would accept a 20-year suspension of Iran’s uranium enrichment program, rather than insisting on a permanent end. ( অর্থাৎ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি না করে, আমি ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য বন্ধ রাখার প্রস্তাব মেনে নিতে পারি।)

মানে বুঝতে পারছেন না? চীনে গিয়ে ট্রাম্প নিজের অবস্থান সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে

- কেন ট্রাম্প নিজের অবস্থান এভাবে বদলে ফেললো?

আল-জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতারের হামাদ বিন খালিফা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সুলতান বারাকাত আজ বলেছেন

- It’s not in the Trump administration’s interests to return to full-scale war with Iran ( অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসনের লোকজন আসলে চাইছে না ইরানের সাথে আরেকবার অ্যামেরিকা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ুক)

কেন চাইছে না? এতদিন তো খুব হুমকি-ধামকি দিল। ইরানকে প্রস্তর যুগে নিয়ে যাবে। পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেবে। তাহলে এমন কী হলো যে, এখন ট্রাম্প প্রশাসনের লোকজনও চাইছে না ইরানে আর হামলা করতে?

উত্তরটা সোজা। অ্যামেরিকা তাঁদের মি*সাইল মজুদের ৫০ ভাগ হারিয়ে ফেলেছে। এখন নতুন করে এইসব তৈরি করতে যে Rare earth minerals (খুবই দুর্লভ খনিজ পদার্থ) লাগে; সেগুলোর প্রায় ৬০ ভাগই পাওয়া চায় চীনে। মানে যে খনিজ পদার্থ দিয়ে স্মার্ট ফোন, কম্পিউটার, সামরিক সরঞ্জাম, মি*সাইল, রাডার ব্যাটারি এইসব তৈরি করা হয়; এর ৬০ ভাগ মুজুদই চীনে অবস্থিত। অনেকে বলে সংখ্যাটা ৮০ ভাগ!

অ্যামেরিকা কিন্তু চীনের কাছ থেকে এইসব রেয়ার আর্থ মিনারেল কেনে। এখন যদি চীন বলে দেয়

- আমরা তোমাদের এইসব দেব না।

তাহলে অ্যামেরিকা নিজেদের সামরিক সরঞ্জাম বানাতে হিমশিম খাবে। আর পুরো পৃথিবী তো জেনেই গেছে- ওদের অস্ত্রের মজুদ এক ইরান যুদ্ধে কি পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অধ্যাপক সুলতান বারাকাত বলেছেন

- Trump is trying to climb down, step by step ( অর্থাৎ ট্রাম্প আস্তে আস্তে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসছে)

মানে হচ্ছে- একবারে যদি ঘোষণা দেয়; তাহলে তো অ্যামেরিকার জনগণ বুঝে যাবে- অ্যামেরিকা পরাজয় হয়েছে এবং পৃথিবীব্যাপী ওদের প্রভাব কমে গিয়েছে। তাই আস্তে আস্তে ট্রাম্প নিচে নামছে। হয়ত আর কিছু দিন পর আমরা শুনবো

- ২০ বছরও লাগবে না। ওরা ওদের পারমাণবিক প্রকল্প চালিয়ে নিয়ে যাক। শুধু বো*ম না বানালেই হবে!

কিন্তু অ্যামেরিকান অধ্যাপক পেইপ আজও বলেছেন

- ইরান আগামী এক থেকে দেড় বছরের মাঝেই পারমাণবিক বো*ম বানিয়ে ফেলবে।

এবং এই কথাটা তিনি প্রায় নিশ্চিত ভাবেই বলেছেন। সেই সাথে এটাও বলেছেন

- এই যুদ্ধ শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দেখতে পাবো- ইরান পৃথিবীর পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকার প্রভাব কতটা কমে গেছে; আমার ভাবতেই অবাক লাগে। যেই দিন ট্রাম্প চীনে এসেছে। সে দিনও চীনের ইংরেজি পত্রিকা 'চায়না ডেইলি' ট্রাম্পকে নিয়ে কোন শিরোনাম করে নাই! করেছে তাজিকিস্তানের সাথে চীনের আলোচনা নিয়ে!

আজকে দেখতে পাচ্ছি চায়না ডেইলি ট্রাম্পকে নিয়ে শিরোনাম করেছে। এদিকে অ্যামেরিকার সামরিক বিশেষজ্ঞ কর্নেল উইলকার্সন আজ বলেছেন

- অর্থনীতি বলুন কিংবা সামরিক; চীনের আর অ্যামেরিকাকে দরকার নেই। কিন্তু অ্যামেরিকা চীনকে ছাড়া চলতে পারবে না। কারনটা তো খুব পরিষ্কার। এইসব খনিজ না পেলে অ্যামেরিকা অস্ত্র বানাবে কই থেকে!

খুব মজার একটা উদাহরণ দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন

- কয় দিন আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট চীনে গিয়েছে। কে তাঁকে বরণ করেছে? চীনের প্রেসিডেন্ট শি-জিনপিং। এমনকি উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট যখন চীনে গেছে; প্রেসিডেন্ট শি -জিনপিং তাঁকে বরণ করেছে। আর ট্রাম্প যখন গেল; তখন চীনের প্রেসিডেন্ট তাঁকে বরণ করে নাই!

আমি ঠিক জানি না আসলেই উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে চীনের প্রেসিডেন্ট বরণ করতে গিয়েছিল কিনা। যা হোক তিনি যেটা বুঝাতে চেয়েছেন- চীন আসলে ট্রাম্পকে সেই অর্থে খুব একটা আমলে নেয় নাই এবং ম্যানিয়াক ট্রাম্পের কথা-বার্তার যে কোন মূল্য নাই সেটা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এদিকে অ্যামেরিকার আরেক সাবেক কর্নেল জনসন আজ বলেছেন

- China just said no to Trump ( অর্থাৎ চীন, ট্রাম্পকে "না" করে দিয়েছে)

আর এই জন্যই চীন থেকে অ্যামেরিকায় ফিরতে ফিরতে ট্রাম্প বলেছে

- আমি ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য বন্ধ রাখার প্রস্তাব মেনে নিতে পারি।

06/05/2026

🔴Breaking🔴
তুরস্কের এক আঘাতেই তছনছ হবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত! ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালো এরদোগানের তুরস্ক। 🇹🇷🚀

বিশ্ব রাজনীতিতে আজ এক বিশাল ভূমিকম্প হয়ে গেল! কয়েক দিন আগে যা ছিল কল্পনা, আজ তা-ই বাস্তব। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া আর চীনের মতো পরাশক্তিদের সেই বিশেষ ‘আইসিবিএম’ ক্লাবে দাপটের সাথে ঢুকে পড়ল তুরস্ক।

আঙ্কারার আকাশে আজ ডানা মেলল তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র- ‘ইলদিরিমহান’ (Yıldırımhan)!

কল্পনা করতে পারেন এর ক্ষমতা? তুরস্কের মাটি থেকে একটি বোতাম টিপলে মাত্র কয়েক মিনিটে লন্ডন, মস্কো, বেইজিং কিংবা মুম্বাইয়ের মতো শহরগুলোতে আঘাত হানতে পারবে এই দানব। ৬,০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইল যেন আস্ত এক মৃত্য দূত!কিন্তু সবচেয়ে ভয়ের কারণ হলো এর গতি। শব্দের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি গতিতে (Mach 25) এটি ধেয়ে আসে। সহজ কথায়, এক ঘণ্টায় পুরো পৃথিবী তিনবার চক্কর দেওয়ার মতো গতি! বর্তমান বিশ্বের এমন কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই যা এই প্রচণ্ড গতির মিসাইলকে মাঝপথে থামিয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ, এটি একবার লক্ষ্যভেদে বের হলে ধ্বংস নিশ্চিত!

আর এর জ্বালানি প্রযুক্তি? এখানেও তুরস্ক দেখিয়েছে অভাবনীয় কারিশমা। বিশেষ ‘নাইট্রোজেন টেট্রোক্সাইড’ জ্বালানি ব্যবহারের ফলে এটি যেকোনো সময়, যেকোনো মুহূর্তে উৎক্ষেপণের জন্য ২৪ ঘণ্টা রেডি রাখা যায়।

পরমাণু বোমা থাক বা না থাক, এর বিধ্বংসী গতিই যেকোনো বিশাল স্থাপনাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।তুরস্ক আজ প্রমাণ করল, তারা আর কারো ওপর নির্ভরশীল নয়। নিজেদের ইঞ্জিনে, নিজেদের প্রযুক্তিতে তারা এখন মহাকাশ ছোঁয়ার শক্তি রাখে। আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে আঙ্কারা এখন এক নতুন ‘গেম চেঞ্জার’!

- Reuters,

03/05/2026

- We don’t need any advice from T*rump. ( অর্থাৎ ট্রাম্পের কাছ থেকে আমাদের কোনো উপদেশের প্রয়োজন নেই)

এত বছর ধরে ভূ-রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করছি, পড়েছি এখন পড়াই। আমি কোন দিন ভাবতে পারি নাই - দ্বিতীয় বিশ্বযদ্ধ পরবর্তী জার্মানি কখনো অ্যামেরিকান কোন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন বক্তব্য দিবে। আপনাদের জানিয়ে রাখি- কন্টিনেন্টাল ইউরোপে (মানে ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড বাদে মূল ইউরোপীয় ভূখণ্ডে) জার্মানিই শেষ কথা।

২২ বছর ইউরোপে থাকার অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। কন্টিনেন্টাল ইউরোপের দেশগুলো জার্মানিকে আলাদা চোখে দেখে। এরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে এতটাই এগিয়ে যে, দুটো বিশ্ব যুদ্ধের ধ্বংস স্তুপ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ওরা এখনো পৃথিবীর সব চাইতে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোর একটি। চাইলেই ওরা আবারও পৃথিবীর সব চাইতে শক্তিশালী সামরিক শক্তির দেশ হয়ে যেতে পারে।

পড়াশুনা, জ্ঞান-বিজ্ঞানের জন্য যদি আপনার কখনো পড়তে ইচ্ছা করে। জার্মানি যাবেন। ওদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা অন্য লেভেলের। যা হোক, সেই জার্মানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হেরে যাবার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিজেদের বাজেটের দুই পার্সেন্টের বেশি কখনো সামরিক খাতে ব্যয় করবে না। নইলে জার্মানি আবার মনস্টার হয়ে যেতে পারে। সেই জার্মানির চ্যান্সেলর আজ বলেছেন

- ইউরোপের আর উচিত হবে না অ্যামেরিকার উপর নির্ভরশীল থাকা।

এই যুদ্ধের পর নিশ্চিত ভাবেই ইউরোপ চেষ্টা করবে অ্যামেরিকার বলয় থেকে আস্তে আস্তে বের হয়ে আসার । এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে আরব দেশগুলোর মাঝেও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। আরব আমিরাতের সাথে সৌদি আরব, কাতারের সম্পর্কে ফাটল দেখা দিয়েছে। তবে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পেপ আজ একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় বলেছেন। তিনি বলেছেন

- আরব-আমিরাতের মাঝে যেই সাতটা স্টেট আছে; এর মাঝে শারজাহ আরব-আমিরাত থেকে বের হয়ে যাবার চেষ্টা করছে।

তিনি এরপর বলেছেন

- দুবাই এবং আবুধাবি এই যুদ্ধে ইরানের বিপক্ষে যে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে; শারজাহ এর অনেক কিছুই সাপোর্ট করে না। তাই তাঁরা বের হয়ে যেতে চাইছে ।

তিনি এটাও বলেছে- আমরা হয়ত নতুন একটা রাষ্ট্র- রিপাবলিক অব শারজাহ দেখতে পাবো খুব কাছাকাছি ভবিষ্যতে।

অর্থাৎ এই যুদ্ধের ফলে ওয়ার্ল্ড অর্ডারের (বিশ্ব ব্যবস্থায়) পরিবর্তন এখন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে। অ্যামেরিকার পাশে এই মুহূর্তে ই*জরাইল আর দুই-একটা আরব রাষ্ট্র ছাড়া কেউ নেই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে

- এই অবস্থায় অ্যামেরিকা কি ইরানে আরেকবার হামলা করবে?

যদি হামলা নাই করে, তাহলে বিলিয়ন ডলার খরচ করে এত এত জাহাজ , সৈন্য আর বো*ম কেন আনা হয়েছে? আমার তো ধারণা ট্রাম্প আরেকবার ইরানে বড় রকম হামলা করে জুনের ১২ দিনের ওই যুদ্ধের মত ঘোষণা দেবে

- Iran’s nuclear facilities have been completely and totally obliterated ( ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ এবং পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।)

ধ্বংস তো আর করতে পারবে না। স্রেফ এটা বলার জন্য হলেও আমার ধারণা সে আবার ইরানে হামলা করবে। তবে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারান্ডি কিছুক্ষণ আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন

- ইরানে আরেকবার হামলা হলে ই*জরাইলের কোন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আর থাকবে না। শুধু ই*জরাইল না আরবের দেশগুলোর সকল তেল-গ্যাস ক্ষেত্র ধ্বংস হয়ে যাবে এবং অ্যামেরিকার জাহাজগুলোও ইরান এইবার ধ্বংস করে দেবে।

সিএনএন আজ একটা কলাম প্রকাশ করেছে। বিখ্যাত কলামিস্ট ইভানা কতাসোভার লেখা এই কলামের শিরোনাম হচ্ছে

- Two months into the Iran war, almost everybody is a loser (ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই মাস পর দেখা যাচ্ছে, প্রায় সবাইই পরাজিত!)

তিনি এই কলামে বলেছেন পৃথিবীর সব দেশ কম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও রাশিয়া এবং চীন এই মুহূর্তে লাভবান হচ্ছে। কিন্তু তিনি যেটা বলতে ভুলে গেছেন। সেটা হচ্ছে

- পৃথিবীর দেশগুলো হয়ত আলাদা আলাদা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যবাদ এক সাথে পৃথিবী জুড়ে ধ্বসে পড়ছে! এবং সবাই সেটা দেখতেও পাচ্ছে।

এই লেখা শেষ করছি তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারান্ডির বলা আজকের একটা উক্তি দিয়ে। তিনি বলেছেন

- Iran will win this war, either on the battlefield or through diplomacy ( ইরান এই যুদ্ধে জিতবে, হয় যুদ্ধক্ষেত্রে অথবা কূটনৈতিকভাবে।)

ইরান আমাদের সবাইকে ভুল প্রমাণ করেছে। কয়েক যুগ ধরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় থাকার পরও ওরা কীভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানে এত এগিয়ে গেল। এটি নিয়ে নিশ্চিত ভাবেই ভবিষ্যতে অনেক গবেষণা হবে। ইরান এখন পৃথিবীর বিস্ময়ে পরিণত হয়েছে।

Copy
#ইরান #আমেরিকা

01/05/2026

🔴🔴
ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। গতকাল ভোর রাতে সবার প্রথম ব্রেকিং নিউজ করেছে অ্যামেরিকান Bloomberg নিউজ। তাঁরা রিপোর্ট করে জানায়

- অ্যামেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে হাইপারসনিক মি*সাইল মোতায়েন করেছে।

তাঁরা ওই রিপোর্টে বলেছে

- এর আগে যুদ্ধ ক্ষেত্রে অ্যামেরিকা কখনো এত শক্তিশালী মি*সাইল ব্যাবহার করেনি।

এর কিছুক্ষণ পরই অ্যামেরিকান টেলিভিশন সিএনএন রিপোর্ট করে জানায়

- সেন্টকম (মানে অ্যামেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড সিস্টেম) আজ ট্রা*ম্পকে ব্রিফ করে জানাবে ইরানে কীভাবে পরবর্তী হামলা করা যায়।

এরপর ব্রিটিশ টেলিভিশন স্কাই নিউজ হাঁটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছে। তাঁরা খবর করে জানিয়ে দিয়েছে

- অ্যামেরিকা ইরানকে আলোচনায় আনতে বাধ্য করার জন্য ইরানে স্বল্পমেয়াদী কিন্তু শক্তিশালী হামলা করার পরিকল্পনা করছে এই উইকএন্ডে।

এরপর অবশ্য অ্যামেরিকান প্রায় সকল পত্রিকা খবরের শিরোনাম করেছে ব্যাপারটা নিয়ে। অর্থাৎ ইরানে একটা হামলা হবার সম্ভাবনা আবার দেখা দিয়েছে। আজকে ব্রিফিং-এ কী আলোচনা হয়, সেটা অবশ্য দেখার বিষয়। এর আগে অবশ্য ট্রা*ম্প জানিয়েছে

- হরমুজে অ্যামেরিকান অবরোধ চলবে।

এইসব রিপোর্ট প্রকাশ হবার পর অ্যামেরিকা এবং ইউরোপে তেল-গ্যাসের দাম আরেক দফা বেড়েছে। ব্যারল প্রতি দাম ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে । যেটা গত সাড়ে চার বছরের মাঝে সর্বোচ্চ।

এদিকে ইরানে হামলা হতে পারে; এই খবর প্রচার হবার পর আজ দুপুরে ইরানের নেতা মুজতাবা খামেনি তাঁর টেলিগ্রাম চ্যানেলে পোস্ট করে লিখেছেন

- A new chapter is beginning for the Persian Gulf and the Strait of Hormuz. ( অর্থাৎপারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর জন্য একটি নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে।)

এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এরপর তিনি বলেছেন

- U.S. had failed in its plans and that this shift comes after that defeat. ( অর্থাৎ, অ্যামেরিকা তার পরিকল্পনায় ব্যর্থ হয়েছে এবং এই পরিবর্তন সেই পরাজয়ের পর এসেছে)

সব শেষে তিনি বলেছেন

- Iran will secure the Gulf region and end enemy misuse of the waterway. ( অর্থাৎ, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলকে নিরাপদ করবে এবং জলপথের ওপর শত্রুর অপব্যবহার বন্ধ করবে।)

নতুন খামেনির আজকের এই বার্তাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই এক সপ্তাহে যা যা ঘটেছে; এর প্রতিফলন হচ্ছে আজকের এই পোস্ট। স্কাই নিউজের সামরিক বিশেষজ্ঞ শন বেল বলেছেন

- এই বার্তার মাধ্যমে ইরানের নেতা বুঝিয়ে দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মাঝে নতুন করে ঐক্য তৈরি হয়েছে। যেখানে ইরানই নেতৃত্ব দেবে। বেশিরভাগ দেশ অ্যামেরিকার বলয় থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। কারন ইরান তাঁদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছে- অ্যামেরিকা তোমাদের নিরাপত্তা তো দিতেই পারেনি উল্টো হরমুজ বন্ধ করে দিয়ে তোমাদের ব্যবসা বাণিজ্যও বন্ধ করে দেবার উপক্রম করেছে।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, নিউইয়র্ক টাইমসের কলামিস্ট অধ্যাপক রবার্ট পেপ আজ বলেছেন

- This week, the United States has lost influence in the Middle East ( অর্থাৎ এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব হারিয়েছে।)

এর পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন- ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এই সপ্তাহে পাকিস্তান, ওমান এবং রাশিয়ায় গিয়েছে আলোচনা করতে। এর আগের সপ্তাহে গিয়েছে সৌদি আরব এবং কাতার। ধারণা করা হচ্ছে এই দেশগুলো আলাদা করে নিজেদের মাঝে ঐক্য তৈরি করার চেষ্টা করছে। এই পুরো আলোচনার কোথাও অ্যামেরিকা ছিল না। অর্থাৎ অ্যামেরিকাকে ছাড়াই দেশগুলো এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করছে।

গত পরশু আরব-আমিরাত ওপেক জোট থেকে বের হয়ে গেছে। কেন বের হলো?

কারন আরব আমিরাত এখনও অ্যামেরিকার বলয়েই আছে। বের হয়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে আরব-আমিরাত পাকিস্তানের কাছে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার ফেরত চেয়েছে। এই টাকা ওরা পাকিস্তানকে ধার দিয়েছিল। এখন প্রশ্ন করতে পারেন

- কেন আরব আমিরাত ঠিক এই সময়ে পাকিস্তানের কাছে এই টাকা ফেরত চেয়েছে?

কারন সৌদি আরবের সাথে পাকিস্তানের সামরিক চুক্তি হয়েছে। এটা আবার আরব আমিরাতের সহ্য হয় নাই। কারন পাকিস্তান আবার ইরানের সাথেও এর মাঝে চুক্তি করেছে বলে শুনা যাচ্ছে। আজ আল জাজিরা জানিয়েছে

- পাকিস্তান এবং ইরানের মাঝে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে এবং এটি পুরোপুরি উম্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

অর্থাৎ হরমুজ বন্ধ থাকলেও ইরানের সমস্যা নাই। ইরান এখন পাকিস্তান দিয়ে সড়ক পথে যতটুকু সম্ভব তেল-গ্যাস রপ্তানি করবে। পাকিস্তান থেকে আবার চীনেও সেটা যেতে পারে বলে জানাচ্ছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি।

অর্থাৎ অ্যামেরিকা পুরোপুরি একা হয়ে পড়ছে। এদিকে এই সপ্তাহে দুটো বড় ঘটনা ঘটেছে। জার্মানির চ্যান্সেলর বলেছেন

- The United States is being humiliated in the eyes of the Iranian leadership (অর্থাৎ, ইরানি নেতৃত্বের কাছে যুক্তরাষ্ট্র অপমানিত হচ্ছে।)
#আন্তর্জাতিক #হরমুজ #ইরান #আমেরিকা #মার্কিন

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when খবর ১০১ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share